পানছড়িতে ১ লাখ টাকা অনুদান: ইউপিডিএফের ছদ্মমানবিকতা ও চাঁদাবাজির ঘোর চিত্র
ছবি- সিএইচটি নিউজ।
![]()
মোঃ সাইফুল ইসলাম
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়িতে আজ বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের পানছড়ি ইউনিট কর্তৃক স্থানীয় বাসিন্দা দেবতরু চাকমাকে নগদ ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। দেবতরু চাকমা ১০ সন্তানের জনক। ইউপিডিএফের পক্ষ হতে বলা হয়; অনুষ্ঠানটি স্থানীয় ইউনিয়নের কিনাচান পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দেবতরু চাকমার পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীবৃন্দ। ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এ অর্থ তুলে দেন পানছড়ি ইউনিটের সংগঠক আইচুক ত্রিপুরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখানো হচ্ছে, এই অর্থপ্রদানের মধ্য দিয়ে ইউপিডিএফ নিজেকে মানবিক ও সমাজসেবা মূলক সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তবে এই কর্মকাণ্ডের পেছনের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। বহু বছর ধরে ইউপিডিএফ পাহাড়ে নিরীহ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপর চাঁদাবাজি, অপহরণ, হুমকি, হত্যা এবং ভীতিকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। পাহাড়ে তাদের রাজত্বকে প্রথাগতভাবে “ত্রাসের রাষ্ট্র” হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায্য জীবিকা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত।
এবার প্রশ্ন উঠছে, যে অর্থ দেবতরু চাকমার হাতে দেওয়া হয়েছে, তার উৎস কি? কোনো সন্দেহ নেই, এটি নিছক “দাতব্য” নয়। বরং ইউপিডিএফের দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক দাবী ও অপহরণের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের পুনর্বণ্টন মাত্র। অর্থাৎ নিরীহ মানুষের চক্রান্ত, চক্রান্তের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদই একবার আবার মানুষের কাছে ফেরত পৌঁছানোর নাটক সাজানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, “এ ধরনের ‘অনুদান’ প্রদর্শন কেবল বাহ্যিক মুখোশ। যারা বছরের পর বছর আমাদের ঘরে ঢুকে টাকা, ধান, গবাদি পশু আদায় করেছে, তারা কীভাবে নিজেদেরকে হঠাৎ সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে?”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক অনুদান কার্যক্রম ইউপিডিএফের জন্য মূলত দুই উদ্দেশ্য পূরণ করে—
১. নিজের ‘মানবিক মুখোশ’ তৈরি করা, যাতে বাহ্যিক পর্যবেক্ষক বা প্রশাসনের নজর এড়ানো যায়।
২. স্থানীয় জনগণের উপর আংশিক মনোযোগ আকর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি কমানো, যাতে চাঁদাবাজি ও অপরাধের মূল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়।
সংক্ষেপে, এটি কোনও সত্যিকারের মানবিক উদ্যোগ নয়; বরং এক প্রভাবশালী সন্ত্রাসী সংগঠনের ছদ্মমানবিক কৌশল, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের ওপর দীর্ঘদিনের শোষণকে আড়াল করার চেষ্টা। ইউপিডিএফের এই কর্মকাণ্ড সমাজে একটি গুরুতর প্রশ্ন তোলে, সঙ্গত কি এই ধরনের ‘উপহার’ দেওয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি চালানো প্রতিষ্ঠানকে মানবিক ও প্রশংসনীয় হিসেবে চিহ্নিত করা যায়?
স্থানীয় ও বিচার বিশ্লেষকরা বলছেন, “যে সংগঠনই পাহাড়ে আতঙ্ক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে, তার হাতে নিরীহ মানুষের ভাগ্য ভরিয়ে দেওয়ার অর্থ কখনও সত্যিকারের সহায়তা নয়—এটি এক ধরণের নাটক এবং ছদ্মমানবিক প্রচারণা।”
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র নিরাপত্তাবাহিনী ও প্রশাসনের কার্যকর তদারকি নয়, সেইসাথে স্থানীয় জনগণকে স্বচ্ছ এবং জোরহীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র ‘এক লাখ টাকা অনুদান’ প্রদর্শনের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের ওপর ইউপিডিএফের দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসকে ঢেকে রাখা যাবে না।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।