ভারতের আরএসএস ও গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ভারতের আরএসএস ও গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ভারতের আরএসএস ও গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

Hyderabad: RSS volunteers take part in pat-sanchalan in Hyderabad, Wednesday, Dec. 25, 2019. (PTI Photo) (PTI12_25_2019_000190A)

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন ও অধিকার খর্বের অভিযোগে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)৷ একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ বা ‘র’-কেও৷

চলতি বছর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ চিহ্নিত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন এই আলোয় তাদের বাণিজ্যনীতি ও অস্ত্র বিক্রির সময় ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখে৷

আরো বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরএসএসের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তার সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়কে বিবেচনায় আনা উচিত৷

এর আগে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব, দাঙ্গায় প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মার্কিন সরকার ভারতের তৎকালীন বিজেপি নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল৷ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অবশ্য সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়৷

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি৷ তবে অতীতে এই সংগঠনের প্রতিবেদনকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক’ ও ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছে৷

কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার হাল আরো খারাপ হয়েছে৷ ক্রমেই অবনতি হচ্ছে৷ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাদের উপাসনালয় হামলার শিকার হচ্ছে৷ ভারত সরকারই সে জন্য দায়ী৷ বিভিন্ন রাজ্যে জবরদস্তি ধর্মান্তকরণ ঠেকাতে কঠোর আইন তৈরি করা হচ্ছে৷ সেই আইনে এ–জাতীয় অপরাধের কঠোরতর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে৷ বহু নাগরিককে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে৷ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নাগরিকদের বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারির নামে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে৷

প্রতিবেদনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের এ ধরনের ঘটনাবলির উদাহরণও দেওয়া হয়েছে৷ যেমন আওরঙ্গজেবের সমাধি তুলে দেওয়ার চেষ্টায় মহারাষ্ট্রে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহিংস আন্দোলন ও তাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা৷ কিংবা গত বছরের জুন মাসে ওডিশায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণে ২০টি খ্রিষ্টান পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া৷ ওই খ্রিষ্টান পরিবারের সদস্যরা জবরদস্তি ধর্মান্তরকরণে আপত্তি জানিয়েছিলেন৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ সেই আক্রমণ ঠেকায়নি৷ এ কারণে আটজন আহত হন৷

মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদনে পেহেলগামে হামলার ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, ওই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিন সংঘাত চলে৷ তার জেরে ইসলামবিরোধিতা প্রকট হয়৷ উত্তর প্রদেশ ও কর্ণাটকে ঘৃণা অপরাধে মুসলিমরা নিহত হন৷ গত মে মাসে ভারত সরকার ১৫ জন খ্রিষ্টানসহ ৪০ জন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে গ্রেপ্তার করে৷ তাদের মিয়ানমার উপকূলে নিয়ে গিয়ে সাঁতরে চলে যেতে বলা হয়৷ লাইফজ্যাকেট ছাড়া তাদের আর কিছুই দেওয়া হয়নি৷
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও গত বছরের জুলাইয়ে কয়েক শ বাংলাভাষী মুসলিমকে জোর করে আসাম থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়৷ বিজেপি নেতাদের চোখে তারা ‘অনুপ্রবেশকারী’৷ তাদের ঠেকাতেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিদেশি আইনে নতুন ধারা ও বিধান চালু করা হয়েছে৷ ওয়াক্ফ আইনে মুসলিমদের ধর্মীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

সিএএ ও ধর্মান্তরকরণবিরোধী আইনের পাশাপাশি গোরক্ষকদের স্বার্থে তৈরি আইন ও তার প্রয়োগের উল্লেখ করা মার্কিন কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উমর খালিদ ও শারজিল আলমের মতো বহু অধিকারকর্মীকে বিনা বিচারে পাঁচ বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে৷ ‘আই লাভ মোহাম্মদ’ লেখা পোস্টার–ব্যানার টাঙানোর ‘অপরাধে’ অগুনতি মানুষকে ধরপাকড় করা হয়েছে৷ মামলাও করা হয়েছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের এই কমিশন একটি স্বাধীন, স্বশাসিত ও সরকারি সংস্থা৷ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে তারা প্রতিবেদন পেশ করে৷ সেই প্রতিবেদনের আলোকে তারা মার্কিন সরকারকে নীতি নির্ধারণের সুপারিশ করে৷ তবে এই সুপারিশ মানা বাধ্যতামূলক নয়৷

ইউএসসিআইআরএফ ভারতসহ পৃথিবীর ১৮টি দেশকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ বলে চিহ্নিত করেছে৷ অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চীন, কিউবা, ইরিত্রিয়া, ইরান, লিবিয়া, নিকারাগুয়া, নাইজিরিয়া, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিরিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও ভিয়েতনাম৷

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।