মণিপুরে বিস্ফোরণের পর যৌথ অভিযানে ৩ জঙ্গি আটক, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

মণিপুরে বিস্ফোরণের পর যৌথ অভিযানে ৩ জঙ্গি আটক, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

মণিপুরে বিস্ফোরণের পর যৌথ অভিযানে ৩ জঙ্গি আটক, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মণিপুর রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে সন্দেহভাজন তিন জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে মণিপুর পুলিশ।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিষ্ণুপুর জেলার মৈরাং থানার অন্তর্গত ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকায় ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের ‘উসকানিবিহীন হামলার’ জেরে ওই এলাকার বাসিন্দা ওইনাম মঙ্গলঙ্গাম্বা সিংয়ের বাড়ির ভেতরে বিস্ফোরণটি ঘটে।

বিস্ফোরণে বোমার আঘাতে দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু নিহত হয় এবং তাদের মা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী চুরাচাঁদপুর জেলায় ব্যাপক তল্লাশি ও কম্বিং অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে রাজ্য পুলিশ ছাড়াও আসাম রাইফেলস এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স (সিআরপিএফ) যৌথভাবে অংশ নেয়।

এই অভিযানে ‘ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি’ নামের সংগঠনের সদস্য সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন জামপাও কুকি, সাসাং এবং পলাল্লেম ভাইফেই।

তাদের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল (ম্যাগাজিন ও ২৫ রাউন্ড গুলিসহ), একটি পিস্তল (দুটি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড গুলিসহ), ২০ হাজার ১০০ রুপি নগদ অর্থ এবং প্রায় ২১ দশমিক ১৯ কেজি ওজনের কাঁচা আফিম বলে ধারণা করা দুই বস্তা মাদক উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া চুরাচাঁদপুর জেলার মলফেই তমপাক এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি এমপি-৯ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, একটি পিস্তল (ম্যাগাজিনসহ), দুটি লেথোড টিউব, একটি দেশীয়ভাবে তৈরি কামান (পাম্পি) এবং পাঁচটি ৭০ মিমি কার্তুজ।

ত্রোংলাওবি এলাকার বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে মণিপুরের উপত্যকা অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইম্ফল, থৌবল, বিষ্ণুপুর ও চুরাচাঁদপুর জেলায় ফ্ল্যাগ মার্চ ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ টহল পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ত্রোংলাওবি বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।