আলীকদম সেনা জোনের সমন্বয়ে দুর্গম পাহাড়ে হাম-রুবেলা টিকাদানে গতি
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন।
উপজেলার কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে টিকাদান ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিকে সহজতর করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম পথ, দীর্ঘ দূরত্ব, সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উচ্চ যাতায়াত ব্যয়ের কারণে এসব এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষেও নিয়মিতভাবে এসব এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
এ প্রেক্ষাপটে আলীকদম সেনা জোনের সক্রিয় সহায়তায় গত ৩০ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকার মোট ১৪টি দুর্গম পাড়ায় সফলভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে বহু প্রত্যন্ত পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

কার্যক্রম বাস্তবায়নে আলীকদম সেনা জোন তিনটি বিশেষ টিম মোতায়েন করে, যা জানালিপাড়া, কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি টিমে একটি করে আর্মি পেট্রোলের পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এসব টিম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে সমন্বয় করে সরাসরি দুর্গম পাড়াগুলোতে গিয়ে ঘরে ঘরে টিকাদান, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যাতায়াত সহায়তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছে। সেনাবাহিনীর এই সহায়তায় পূর্বে অপ্রবেশযোগ্য এলাকাগুলোতেও দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আলীকদমে চলমান টিকাদান ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ২৭৮ জনের বিপরীতে ইতোমধ্যে ২ মে পর্যন্ত ৬ হাজার ৫১৩ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে কুরুকপাতা ইউনিয়নে নির্ধারিত ৮৩৮ জনের বিপরীতে ৭৮৫ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এই কার্যক্রমের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে স্থানীয় নারী, পুরুষ ও প্রবীণদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. হাসানের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল টিম পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

চিকিৎসা সহায়তার অংশ হিসেবে গুরুতর অসুস্থ ৪ জন রোগী—যাদের মধ্যে ২ জন টাইফয়েড ও ২ জন হাম আক্রান্ত’কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং একজন রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হয়েছে। বর্তমানে ৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অন্যদিকে ৮ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় আলীকদম জোনের অধীনস্থ মেন্দনপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা নিরাপত্তা, সমন্বয় ও যাতায়াত সহায়তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যার ফলে পুরো কার্যক্রমটি সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে আলীকদম জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের একটি কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর এই উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।