মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর বিশেষ চক্ষু ও মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা পেল সহস্রাধিক মানুষ
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং মহালছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত এই ক্যাম্পে পাহাড়ি ও বাঙালি মিলিয়ে সহস্রাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

লায়ন্স ক্লাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং রোটারি ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজিত এই ক্যাম্পে চক্ষু পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণের পাশাপাশি জটিল রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হয়। একইসঙ্গে সাধারণ রোগীদের জন্যও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।
এ সময় মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আল-জাবির আসিফ চিকিৎসাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন। তিনি চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং আয়োজনে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পে মোট ৫৬৮ জন চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২৯৬ জন পাহাড়ি এবং ২৭২ জন বাঙালি। এছাড়া অন্যান্য চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন ৪৫৭ জন, যার মধ্যে ২৫৫ জন পাহাড়ি ও ২০২ জন বাঙালি। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫০৪ জন নারী, ৪২৬ জন পুরুষ এবং ৯৫ জন শিশু ছিলেন।
চক্ষু রোগীদের মধ্যে ১০০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। আরও ১২৭ জন রোগীকে পরবর্তীতে চশমা ও ওষুধ সরবরাহের জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে।

এছাড়া ছানি অপসারণসহ বিভিন্ন জটিল চক্ষু অস্ত্রোপচারের জন্য ১৭৪ জন রোগীকে নির্বাচন করে মহালছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রোগীদের নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করারও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রোগীদের যাতায়াতের কষ্ট বিবেচনায় মহালছড়ি জোন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মহালছড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৪৩৮ জন রোগীর আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন রুটে একাধিক যানবাহনের মাধ্যমে রোগীদের পরিবহন করা হয়, যা দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে স্বস্তি এনে দেয়।

চিকিৎসা ক্যাম্পে মহালছড়ি জোনের মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও সেবা প্রদান করেন। ফলে নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয়।
মহালছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন বোরহান উদ্দিন বায়েজীদ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকার মানুষ যাতে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বিশেষ মেডিকেল ও চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও ফলোআপ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য সুইচিং প্রু সাইন বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ। সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহালছড়ি জোনের এই উদ্যোগ শুধু একটি চিকিৎসা ক্যাম্প নয়, বরং দুর্গম পাহাড়ি মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ক্যাম্প মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে চিকিৎসা, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।