ঈদে পর্যটকের ঢল নামার অপেক্ষায় খাগড়াছড়ি-সাজেক, প্রস্তুত হোটেল-রিসোর্ট

ঈদে পর্যটকের ঢল নামার অপেক্ষায় খাগড়াছড়ি-সাজেক, প্রস্তুত হোটেল-রিসোর্ট

ঈদে পর্যটকের ঢল নামার অপেক্ষায় খাগড়াছড়ি-সাজেক, প্রস্তুত হোটেল-রিসোর্ট
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের ছুটিতে পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশজুড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্যালি। ইতোমধ্যে জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে শুরু হয়েছে আগাম বুকিং, আর পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের পরবর্তী এক সপ্তাহে খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্যালি মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত আলুটিলা গুহা, জেলা পরিষদ পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজ, মায়াবিনী লেক, তারেং ঝরনা ও রিছাং ঝরনাসহ জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

জেলা শহর ও সাজেককেন্দ্রিক প্রায় ৫০টিরও বেশি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে ইতোমধ্যে বুকিং শুরু হয়েছে। অনেক আবাসিক হোটেল মালিক জানিয়েছেন, ঈদের আগেই অধিকাংশ কক্ষ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এদিকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র, সড়কপথ এবং সাজেকগামী রুটে বাড়ানো হয়েছে টহল কার্যক্রম। পাশাপাশি মোবাইল টিম ও বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া জানান, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় কোনো পর্যটক বিপদে পড়লে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সাম্প্রতিক পর্যটন প্রবণতায় পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতি মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘ-পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের কারণে সাজেক ও খাগড়াছড়ি এখন দেশীয় পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ঈদ ও দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও সাজেকে পর্যটকের ঢল নামে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন সচল হয়, তেমনি পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন গতি ফিরে আসে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *