পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলো ভারত

পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলো ভারত

পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলো ভারত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তানের করাচি শহরের আধাসামরিক বাহিনীর কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভারতের প্রক্সি বা গোপন এজেন্টের জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়া দিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের কাল্পনিক অভিযোগ তোলার তীব্র সমালোচনা করে ইসলামাবাদকে অন্যের দিকে আঙুল না তুলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ দমনের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির আনা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা করাচির সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের করা ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবেদনগুলো দেখেছি। আমরা সেগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। অন্যের দিকে আঙুল তোলার চেয়ে পাকিস্তান যদি নিজের ভেতরের দিকে তাকায়, তবে সেটাই তাদের জন্য অনেক ভালো হবে।’

ভারতীয় মুখপাত্র আরও বলেন যে পাকিস্তানের উচিত তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে লালিত হওয়া সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও আস্তানাগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যে প্রবণতা ইসলামাবাদের রয়েছে, তা থেকে নিজেদের পুরোপুরি মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য যে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে হামলার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ঘটনায় ভারতের জড়িত থাকার দাবি করেছিলেন।

অন্য দিকে করাচি হামলার সরাসরি পাল্টা জবাব হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে তীব্র বিমান ও স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে আফগানিস্তানের পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার— এই তিন প্রদেশের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-আহরারের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে সীমান্ত এলাকায় পদাতিক সেনার স্থল অভিযানও চালানো হয়েছে।

গত শনিবার পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় একদল সশস্ত্র যোদ্ধা। জামাত-উল-আহরার নামক গোষ্ঠীটি এই নাশকতার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে যে তাদের ৯ জন সদস্য এই সুনির্দিষ্ট হামলায় অংশ নিয়েছিল।

ওই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনীর ৩ জন সদস্য নিহত ও ৪ জন আহত হন। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী পাল্টা গুলিতে ৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার পাশাপাশি একজন আফগান নাগরিককে আহত অবস্থায় বন্দি করা হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার তাদের দেশে টিটিপি এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যারা প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে আফগান প্রশাসন ইসলামাবাদের এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ বরাবরই শক্তভাবে অস্বীকার করে দাবি করেছে যে পাকিস্তানি বিমান হামলায় সাধারণ বেসামরিক নাগরিকেরা প্রাণ হারাচ্ছেন।

দুই দেশের মধ্যে এই ক্রমাগত সামরিক সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে গত অক্টোবর মাস থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *