আ.লীগ নেতার সেগুন বাগান থেকে ২৪ লাখ টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ: বিএনপি নেতাকে শোকজ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতার সেগুন বাগান থেকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য রাজ্জাককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের যৌথ স্বাক্ষরে গত ১৭ জুলাই এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সদস্য রাজ্জাক দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজুল আজীম ফয়েজের একটি সেগুন বাগান থেকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রি করেছে উপজেলা বিএনপি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে উপজেলা বিএনপি। দলটির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বিএনপির সুনাম নষ্টের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।”
শোকজ নোটিশে রাজ্জাককে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা বিএনপি জানিয়েছে, অভিযোগের স্বপক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলে জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রাজ্জাকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, অভিযোগে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজুল আজীম ফয়েজের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং দলীয় তদন্তের ফলাফলের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।