গোপন যে পথ ধরে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা
![]()
সাজ্জাদ হোসেন, ডেইলি স্টার
২০ মে ২০২৬। রাত সাড়ে ৮টার মধ্যেই একেবারে নিস্তব্ধ ফাত্রা পাড়া। মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পাহাড়ঘেরা ম্রো গ্রামটি ততক্ষণে একেবারে সুনসান। ঘরগুলো অন্ধকার, দরজা-জানালা বন্ধ। চারপাশে কেবল ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর নিচের উপত্যকা বেয়ে বয়ে চলা সরু ছড়া ফাত্রা ঝিরির পানির অবিরাম শব্দ।
আমরা ঝিরির দিকে মুখ করে থাকা একটি পাহাড়ের ঢালে চুপচাপ বসে ছিলাম। আধা ঘণ্টার মধ্যে কোনো নড়াচড়াও করিনি। হঠাৎই আমার পাশে থাকা ৫২ বছর বয়সী এক ম্রো ব্যক্তি সতর্ক হয়ে উঠলেন। ফিসফিসিয়ে বললেন, ‘ওদিকে দেখুন। চুপ।’
প্রায় ১০০ মিটার নিচে অন্ধকারের মধ্যে টর্চলাইটের হালকা আলো দেখা গেল। একে একে ঝিরির তলদেশ ধরে মানুষের অবয়ব দেখা দিতে লাগল। সামনে হাঁটছিলেন তিনজন নারী। প্রত্যেকের হাতে ছোট ব্যাগ। তাদের পেছনে সারিবদ্ধভাবে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিলেন ৯ জনেরও বেশি পুরুষ। সবাই খুবই সতর্কভাবে হাঁটছিলেন, যাতে কোনো ধরনের শব্দ না হয়।
আমার পাশে থাকা ম্রো ব্যক্তিটি বললেন, ‘ওরা রোহিঙ্গা।’
কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা ঝিরি ধরে আরও ভেতরের দিকে মিলিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর আমরাও চলে আসি।
সেই রাতে আমরা যা দেখেছি, সেটা বান্দরবানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা একটি প্রবণতার অংশ। সেখানে রোহিঙ্গারা জঙ্গলের দুর্গম পথ ব্যবহার করে, অধিকাংশ সময় রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দে বাংলাদেশে ঢুকছে। স্থানীয় মানবপাচার চক্রের সদস্যরা ঝিরি ও পাহাড়ি পথ ধরে নিরাপত্তা চৌকি এড়িয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসে। আলীকদমের পাহাড়জুড়েই সক্রিয় এই চক্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, মিয়ানমারের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আলীকদম উপজেলায় ১০০ জনের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক এবং অন্তত ছয়জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, ‘টাকার জন্য অনেকেই মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ছেন।’
তাদের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের নাম বললে আমার পেছনে বড় বড় শত্রু লেগে যাবে।’

সেই পথের খোঁজ
১৯৮০-এর দশক থেকে মিয়ানমারে সামরিক দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সময়ে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের সবচেয়ে বড় ঢল নামে ২০১৭ সালে। মিয়ানমারে নির্মম সামরিক অভিযানের মুখে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।
তবে এখনো চোরাই পথে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা। ধরা না পড়ার জন্য তাদের অনেকেই দুর্গম পাহাড়ি পথ ও নদীপথে আসছে। এসব যাতায়াত আনুষ্ঠানিক সীমান্ত চৌকির বাইরে হওয়ায় গোপন এসব পথ দিয়ে ঠিক কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে তার নির্ভরযোগ্য কোনো হিসাব নেই।
গত ২০ মে দোরিমুখ পাড়া থেকে আলীকদম বাজার পর্যন্ত এমনই একটি পথ ধরে এগিয়ে যাই। সাধারণত নিরাপত্তা চৌকি এড়িয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য এই পথ ব্যবহার করা হয়। সীমান্ত থেকে আলীকদম বাজারে পৌঁছাতে তাদের প্রায় দুইদিন সময় লাগে। এর মধ্যে জঙ্গল, পাহাড়ি পথ, ঝিরি ও নদীপথ মিলিয়ে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার অতিক্রম করতে হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফাত্রা পাড়া–দোরিমুখ পাড়া–আলীকদম করিডরটি রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের অন্যতম পছন্দের রুট হয়ে উঠেছে। বুচিতং, ইয়ংরিং ও লেলং পাড়া হয়ে পুরোনো পথগুলোতে নজরদারি বাড়ানোয় তারা আরও দুর্গম পথ বেছে নিচ্ছে, যেখানে নজরদারি কম।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, ‘আলীকদমের পথটা তাদের জন্য সহজ। টেকনাফ বা উখিয়ায় নৌকায় নদী পার হতে হয় এবং সেখানে ঝুঁকি বেশি। আর আলীকদমের পথে তারা বন আর ঝিরি ধরে চলতে পারে।’
মিয়ানমার থেকে আলীকদম
সাধারণত সন্ধ্যা নামার আগেই তাদের যাত্রা শুরু হয়। মিয়ানমার অংশে সীমান্ত পিলার ৫৯ থেকে ৬১-এর কাছাকাছি ঝুরুম ঝিরির পাশের পাহাড়চূড়ায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য আসা রোহিঙ্গারা নীরবে একত্রিত হয়। জঙ্গলে গভীর অন্ধকার নেমে আসা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করে। রাত নামার পর খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে জুরুম ঝিরি পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর সীমান্তঘেঁষা জঙ্গলের সরু পথ ধরে নিঃশব্দে এগিয়ে যায়। ফাত্রা পাড়ার কাছে ফাত্রা ঝিরিতে পৌঁছাতে তাদের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।
এই অংশটি সবচেয়ে কঠিন। ঝিরির পানি কাদাযুক্ত এবং কোথাও কোথাও কোমরসমান গভীর। পিচ্ছিল মাটির কারণে অনেককে জুতা খুলে হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং এই পথ ধরে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্ধকারে পাথর ও গাছের শিকড় ঠিকমতো দেখা যায় না। যার কারণে অনেকেই আহত হন।
সীমান্ত পার হওয়ার পর তারা সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মাতামুহুরি নদীর কাছে পাহাড় ভাঙা এলাকায় যায়। ততক্ষণে অনেকেই ভিজে একাকার, ক্লান্ত। ভোররাতের দিকে তারা নদীতীরবর্তী দুর্গম এলাকা সিন্ধুমুখে পৌঁছে এবং রাতের বাকি সময় সেখানেই কাটায়। আমরাও কাছের একটি ম্রো বাড়িতে আশ্রয় নিলাম।

রাংপু পাড়ার এক ম্রো বাসিন্দা বলেন, ‘ওরা ওখানেই বসে থাকে। কারণ, ওখান থেকে চারপাশে নজর রাখা যায়। কাউকে আসতে দেখলেই দ্রুত বনের ভেতর লুকিয়ে পড়তে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীও রাতে ওখানে তেমন একটা যায় না।’
ভোরের আলো ফুটতেই আবার শুরু হয় যাত্রা। উদ্দেশ্য দোরিমুখ পাড়া, যেখান থেকে পাকা সড়ক শুরু হয়েছে। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ধাপে ধাপে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের আলীকদম বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবহন খরচ হিসেবে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং নিরাপত্তা চৌকি এড়াতে আরও দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হয় রোহিঙ্গাদের। আলীকদমে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সহায়তায় তারা টানা প্রায় দুইদিন ধরে এই যাত্রাপথে থাকে। পাচারকারী চক্রের সদস্যরা সীমান্ত পার করে আনাতে রোহিঙ্গা প্রতি সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে।
যেভাবে নিরাপত্তা চৌকি এড়ায়
পোয়ামুহুরী বিজিবি চেকপোস্টে দুই রোহিঙ্গাকে বহনকারী একটি মোটরসাইকেল গতিরোধ করা হয়। পেছনে বাঁধা একটি বালতি দেখিয়ে এক বিজিবি সদস্য মোটরসাইকেল চালককে সংক্ষিপ্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
‘ভেতরে কী?’ জবাবে চালক বলেন, ‘খালি।’ আর কোনো প্রশ্ন নেই। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলটি চলে যাওয়ার অনুমতি পায়।
আরও সামনে মেন্ডন পাড়ার সেনা ক্যাম্প থেকে প্রায় ৫০০ মিটার আগে ওই রোহিঙ্গারা মোটরসাইকেল থেকে নেমে যান। তারা মূল সড়কের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া সরু পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে শুরু করেন। পথের ক্ষয় হওয়া চেহারা আর দৃশ্যমান পায়ের ছাপ দেখে বোঝা যায়, এটি নিয়মিতই ব্যবহার করা হয়।

চালক মোটরসাইকেল নিয়ে একাই চেকপোস্ট পার হয়ে অপর পাশে অপেক্ষা করে। আবার ওই রোহিঙ্গা যাত্রীদের তুলে নেয়।
পরের চেকপোস্ট কৃলাই পাড়ায়। বিজিবির। সেখানে দায়িত্বে থাকা একমাত্র বিজিবি সদস্য ফোনে কথা বলতে বলতেই কোনো তল্লাশি ছাড়াই চলে যাওয়ার সংকেত দেন।
আলীকদম বাজারের আগে শেষ সেনা চেকপোস্টের কাছেও মেন্ডন পাড়ার সেনা ক্যাম্পের মতোই একই কৌশল অনুসরণ করা হয়। মূল সড়ক ধরে না গিয়ে যাত্রীরা নয়াপাড়া ও মংচা পাড়া হয়ে বিকল্প পথে যায়। এরপর চেকপোস্ট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে হেঁটে মাতামুহুরি নদী পার হয়।
কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালকরা চেকপোস্টের আগেই তাদের নামিয়ে দেন। তারা পাশের পথ দিয়ে হেঁটে পার হয়ে অপর পাশে অপেক্ষা করেন। এরপর মোটরসাইকেল আবার তাদের তুলে নেয়।’

স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, এ ধরনের যাতায়াত হঠাৎ করে হয় না। সীমান্ত পার হওয়ার কয়েক দিন আগে দু-তিনজন রোহিঙ্গা পুরুষ প্রায়ই ফাত্রা পাড়ার মতো গ্রামগুলোতে এসে পথ পর্যবেক্ষণ করেন, মোটরসাইকেল ঠিক করেন এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেকে টহল সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেন। বিনিময়ে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ফাত্রা পাড়ার এক বাসিন্দা জানান, এপ্রিলের শেষ দিকে তিনজন রোহিঙ্গা তাদের গ্রামে আসেন। ‘তারা বলেছিল, ওদের এলাকায় কোনো কাজ নেই, পর্যাপ্ত খাবারও নেই। সন্তানদেরও ঠিকমতো খাওয়াতে পারছে না। প্রথমে আমি এই কাজে রাজি হইনি। পরে ভাবলাম, সাহায্য না করলে হয়তো তারা আরও বিপদে পড়বে বা অন্য কারো কাছ থেকে সহযোগিতা নেবে।’
তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি পথের তথ্য দেন এবং এর বিনিময়ে ১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন।

সীমান্ত পার হওয়ার পরের জীবন
আলীকদম হয়ে প্রবেশ করা সব রোহিঙ্গাই উখিয়া বা টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে যায় না। অনেকে সেখানেই থেকে স্থানীয় বাজার, হোটেল, চায়ের দোকান, নির্মাণকাজ ও বনভিত্তিক বিভিন্ন শ্রমে স্বল্প মজুরিতে কাজ করেন।
রাখাইনে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনেকেই সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন। তারা জানিয়েছেন, মাসের পর মাস গোলাগুলি, মর্টার হামলা ও চলমান সংঘাতের পাশাপাশি খাদ্যসংকট ও কাজের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে ছিলেন।
৩০ এপ্রিল প্রকাশিত ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত স্থলপথে প্রায় ২ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, যার মধ্যে ৭০ শতাংশই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশে এসেছেন। স্থলপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করা মিয়ানমারের শরণার্থীদের ৭৯ শতাংশই নারী ও শিশু।
আটকের আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্প্রতি একই পথ ধরে বাংলাদেশে আসা ৪২ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো কাজ নেই। খাবারের দাম অনেক বেশি। অনেক দিন তো সন্তানের জন্য ঠিকমতো খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারিনি। এখানে অন্তত খেতে পারছি, কিছু আয় করতে পারছি।’
তিনি এখন আলীকদম বাজারে একটি টিনশেড ঘরে থাকেন। মাসে ভাড়া দেন ১ হাজার টাকা। ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সড়কের পাশের একটি হোটেলে কাজ করে মাসে ৫ হাজার টাকা আয় করেন। ৪ বছর বয়সী একটি সন্তানও তার সঙ্গে থাকে। আর আগে সীমান্ত পার হওয়া তার স্ত্রী উখিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন।
একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা অন্যদেরও বক্তব্য, মজুরি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তাদের খুব একটা নেই।
একই পথ ধরে আসা আরেক শ্রমিক বলেন, ‘আমি যদি বেশি মজুরি চাই, তাহলে আমাদের কাজ দেবে না। তাই যা দেয়, সেটাই নেই।’
দ্য ডেইলি স্টার এমন আরও দুজন রোহিঙ্গা পুরুষের সঙ্গে কথা বলেছে, যারা ২০ মে রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন এবং তাদের সঙ্গে ছিল আরও ১০ জন। তারা কথা বলার সাহস পাচ্ছিলেন না। কোথা থেকে এসেছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বাংলায় শুধু উত্তর দেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে’। ইশারা করেন মিয়ানমারের দিকে।
সীমান্ত পার হয়ে আসা অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং ভোটার তালিকায় নাম লেখান।
ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের নাম যেন সহজে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তার জন্য জাল নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার অভিযোগে গত ১২ জুলাই আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিন ওয়ার্ড সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ।
এই রোহিঙ্গারা কখন বা কোন পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন সেটা নিশ্চিত করা যায়নি।
পাহাড়ে বাড়ছে অস্বস্তি
ফাত্রা পাড়া-দরিমুখ পাড়া-আলীকদম রুট দিয়ে রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পারাপারের বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে একাধিক খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এই রুটের ম্রো সম্প্রদায় জানায়, রোহিঙ্গাদের এভাবে আসার হার বাড়ছে এবং তাদের গ্রামগুলোতে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। রাতে চলাচলকারীরা প্রায়ই এসে তাদের কাছে খাবার চায়।
টোলা পাড়া গ্রামপ্রধানের বড় ভাই ও কৃষক মনরাই ম্রো বলেন, গত ১৮ মে তার গ্রামের কাছে একটি পরিত্যক্ত জুম ঘরে ১৪ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে খাবার চাইতে এসেছিল। আমরা তাদের জুম ভাত দিয়েছিলাম। তারা সবাই আলীকদমের দিকে যাচ্ছিল।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনিরুজ্জামান এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ অভিহিত করে বলেন, ‘কার্যকর সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব হয় না, বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। এ কারণেই অনানুষ্ঠানিক পথে রোহিঙ্গা বা অন্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকানো সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক শ্রমশক্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ। তারা যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক না, তাই অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে তাদের প্রবেশের ফলে আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
-ডেইলি স্টার।