পাহাড় কাটা, গাছ নিধন ও যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স- মীর হেলাল

পাহাড় কাটা, গাছ নিধন ও যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স- মীর হেলাল

পাহাড় কাটা, গাছ নিধন ও যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স- মীর হেলাল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, পাহাড় কাটা, অবৈধভাবে গাছ নিধন এবং পার্বত্য অঞ্চলে যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হবে।

রোববার (১৯ জুলাই) খাগড়াছড়ি সফরকালে সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পাহাড় কাটা, গাছ নিধন কিংবা পাহাড়ে যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান—যেই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যেসব এলাকায় বন উজাড় হয়েছে, সেখানে নতুন করে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক সংকট ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এরপরও পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, ১৭ বছরের সমস্যা এক-দুই মাসে সমাধান করা সম্ভব নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। যারা দেশকে ভালোবাসে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়, তাদের নিয়েই জেলা পরিষদগুলো পুনর্গঠন করা হবে।

এর আগে, মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং যন্ত্রনাথ কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওএমএসের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনাও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পরে প্রতিমন্ত্রী মাইছড়িতে ওএমএস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং বিকেলে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোনো বিভাজন চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। পার্বত্য অঞ্চলের সব জনগোষ্ঠীর সমান উন্নয়ন ও জীবনমান নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed