মণিপুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৬ সদস্যের আত্মসমর্পণ

মণিপুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৬ সদস্যের আত্মসমর্পণ

মণিপুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৬ সদস্যের আত্মসমর্পণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের মণিপুরে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি-পিপলস ওয়ার গ্রুপ (KCP-PWG)-এর ৪৬ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করে মূলধারায় ফিরে এসেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মণিপুর সরকার ও আসাম রাইফেলস (দক্ষিণ) যৌথভাবে তাদের স্বাগত জানায়।

ইম্ফল পূর্ব জেলার মানত্রিপুখরি গ্যারিসনে অবস্থিত আসাম রাইফেলস (দক্ষিণ) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচন্দ সিং-এর উপস্থিতিতে সংগঠনটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কন্থৌজাম গোবিন্দাস সিং, শিল্প, সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী, কয়েকজন বিধায়ক, প্রধান সচিব, মণিপুর সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, স্পিয়ার কর্পসের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, মণিপুর পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি), আসাম রাইফেলস (দক্ষিণ)-এর মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র কমিশনার, সিআরপিএফের ডিআইজি এবং রাজ্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী খেমচন্দ সিং বলেন, ২০২৩ সালের সংকট শুরুর পর রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়ে গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার অস্ত্র নিরস্ত্র করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে কমপক্ষে ১ হাজার ২০০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬০০টি লুট হওয়া অস্ত্র ছিল।

তিনি অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদেরও মূলধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া মণিপুরের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী, তাদের জন্য রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ নীতির আওতায় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কন্থৌজাম গোবিন্দাস সিং বলেন, ২০২৩ সালের মে মাসে জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কেসিপি-পিডব্লিউজির এতসংখ্যক সদস্য সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। তিনি এ জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের প্রশংসা করেন এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও সহিংসতার পথ পরিহার করে রাজ্যের উন্নয়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) প্রতিরক্ষা শাখার তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা স্বেচ্ছায় ২৮টি আধুনিক অস্ত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে একে রাইফেল, .৩০৩ রাইফেল, পিস্তল, ডাবল-ব্যারেল ও সিঙ্গেল-ব্যারেল রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি সেলফ-লোডিং রাইফেল (এসএলআর), একটি কারবাইন মেশিনগান এবং একটি রকেট প্রপেলড গ্রেনেড (আরপিজি) লঞ্চার। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ম্যাগাজিন, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও জমা দেওয়া হয়েছে।

পিআইবি জানায়, এই আত্মসমর্পণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ আত্মসমর্পণকারী কেউই পূর্ববর্তী কোনো শান্তি চুক্তির আওতায় ছিলেন না। সংস্থাটি জানায়, কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি) ১৯৮০ সালের ১৪ এপ্রিল কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী ওয়াই. ইবোহানবি ও ইবোপিশাক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে সংগঠনটি একাধিক উপদলে বিভক্ত হয় এবং পিপলস ওয়ার গ্রুপ (PWG) ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম ও কাকচিংসহ উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় একটি প্রভাবশালী ভাঙন গোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, অতীতে কেসিপি-পিডব্লিউজি থেকে একসঙ্গে সাধারণত ৫ থেকে ১২ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করলেও এবার একযোগে ৪৬ জনের আত্মসমর্পণ সংগঠনটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। যদিও কর্তৃপক্ষ এখনই বলতে রাজি নয় যে পিডব্লিউজি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে, তবে তারা বলছে, এই আত্মসমর্পণের ফলে সংগঠনটির সাংগঠনিক সক্ষমতা, প্রভাব এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পিআইবি আরও জানায়, আসাম রাইফেলস, মণিপুর পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার ধারাবাহিক যোগাযোগ, মনস্তাত্ত্বিক উদ্যোগ এবং রাজ্য সরকারের সহায়তায় কয়েক সপ্তাহের প্রচেষ্টার ফলেই এই গণআত্মসমর্পণ সম্ভব হয়েছে। তাদের মতে, বেসামরিক জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন স্থবির থাকা অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সমৃদ্ধির পথ সুগম করবে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য ২০১৮ সালের সংশোধিত আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী প্রত্যেক সদস্যকে এককালীন ৪ লাখ রুপি আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, যা তিন বছরের জন্য স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা হবে। এছাড়া তিন বছর ধরে প্রতি মাসে ৬ হাজার রুপি ভাতা এবং জমা দেওয়া অস্ত্রের জন্য পৃথক প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ সময় তারা পুনর্বাসন শিবিরে অবস্থান করবেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

মণিপুর পুলিশের মহাপরিচালক মুকেশ বলেন, জেলা পুলিশ, সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি, আসাম রাইফেলস ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে অব্যাহত থাকবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *