ইসরায়েলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন চাপে নতিস্বীকার নয়: আনোয়ার

ইসরায়েলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন চাপে নতিস্বীকার নয়: আনোয়ার

ইসরায়েলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন চাপে নতিস্বীকার নয়: আনোয়ার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে এবং এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সেরেম্বানে ‘জেলাজাহ রাকান মুদা’ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ওয়াশিংটনকে কুয়ালালামপুরের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও মালয়েশিয়া তার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান, জশ গটহাইমার, জিমি পানেটা, ড্যান গোল্ডম্যান, ডেবি ওয়াসারম্যান শুলৎস, জ্যারেড মস্কোভিটজ, ব্র্যাড শারম্যান ও জেক অকিনক্লস দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

আনোয়ার সম্প্রতি বলেছিলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কোনো ইসরায়েলিকে মালয়েশিয়ায় বসবাস করতে পাওয়া গেলে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার এই নীতি আন্তর্জাতিক আইনের কোনো লঙ্ঘন নয়। এটি কয়েক দশক ধরে অনুসরণ করা হচ্ছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, ‘তারা দাবি করেছেন, মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং অন্যান্য দেশের অধিকারকে অসম্মান করছে। এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর। বহু দশক ধরে আমাদের নীতি হলো- ইহুদিদের নয়, বরং ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। কারণ তারা ফিলিস্তিন ও গাজায় হত্যা, দখলদারিত্ব, নিপীড়ন ও উপনিবেশ স্থাপনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনেক দেশই ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, কিন্তু মার্কিন আইনপ্রণেতারা সম্ভবত সে বিষয়ে অবগত নন।

তিনি বলেন, ‘তারা সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত নন। অনেক দেশই ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আর মালয়েশিয়া তো বহু দশক ধরেই এ নীতি অনুসরণ করে আসছে।’

মালয়েশিয়ার অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, তাদের বুঝতে হবে মালয়েশিয়া একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান তাদের দখলদারিত্ব, নিপীড়ন ও প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডের কারণেই।’

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আট কংগ্রেস সদস্য যৌথভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ জানতে চান। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (IMET) কর্মসূচিসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সহায়তা মালয়েশিয়া পেয়ে থাকে।

গত ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা দেন, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কোনো ইসরায়েলি নাগরিককে মালয়েশিয়ায় বসবাস করতে পাওয়া গেলে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed