ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা, মার্কিন ২ কর্মকর্তার ভিসার আবেদন বাতিল

ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা, মার্কিন ২ কর্মকর্তার ভিসার আবেদন বাতিল

ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা, মার্কিন ২ কর্মকর্তার ভিসার আবেদন বাতিল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল ডেস্ক

ব্রাজিলের আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় দুই মার্কিন কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার। ব্রাজিলের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই ওই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শনিবার ব্রাজিলীয় দুই কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা চলতি মাসের শেষ দিকে ব্রাসিলিয়া সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের সফরকে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে শুক্রবারই ভিসা আবেদন নাকচ করে ব্রাজিল।

ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমবিষয়ক ব্যুরোর সহকারী সচিব রাইলি বার্নস এবং উপ-সহকারী সচিব স্যামুয়েল স্যামসন থাকার কথা ছিল। তাদের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এক মুখপাত্র জানান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতেই তারা ব্রাজিল সফরে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট ব্যুরোর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং এর সঙ্গে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো সম্পর্ক নেই।

আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মুখোমুখি হবেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগেও জাইর বোলসোনারো বারবার ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত রায় দেয়, তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এর ফলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় সাজা ভোগ করছেন।

সম্প্রতি ফ্লাভিও বোলসোনারোও ব্রাজিলের ভোটব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিদেশি সরকারগুলোকে ব্রাজিলের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্রাজিলের ভোটিং মেশিন একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের তৈরি। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয়ই এ দাবি অস্বীকার করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed