বান্দরবানের রুমায় উদ্বেগজনক হামের প্রাদুর্ভাব, এক মাসে তিন শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানের রুমায় উদ্বেগজনক হামের প্রাদুর্ভাব, এক মাসে তিন শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানের রুমায় উদ্বেগজনক হামের প্রাদুর্ভাব, এক মাসে তিন শিশুর মৃত্যু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে আবারও উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। জেলার আলীকদম ও লামা উপজেলার পর এবার রুমা উপজেলায় সংক্রামক এ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা সদর ছাড়াও সীমান্তবর্তী গ্যালেংগা ইউনিয়ন এবং ম্রো ও খুমী অধ্যুষিত বিভিন্ন দুর্গম পাড়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে ১৩ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া গত এক মাসে হাম ও হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

অন্যদিকে বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালেও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে রুমা উপজেলার চেমাখাল, শৈরাতং, লেতংপাড়া ও পাইন্দুখাল, থানচি উপজেলার তিন্দু এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার খামতাংপাড়াসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকার কয়েকজন রোগী জেলা সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ, নিয়মিত টিকাদানে অনাগ্রহ, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্বের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পৌঁছাতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে একাধিক মেডিকেল টিম গঠন করেছে। এসব টিম দুর্গম এলাকায় গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদান, রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছে। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান বলেন, “হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। একাধিক মেডিকেল টিম দুর্গম এলাকায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”

স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো টিকাদান ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগের বিস্তার এবং মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *