সাতক্ষীরায় বিজিবির উদ্যোগে ধ্বংস করা হলো প্রায় ৩২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ। তিনি সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ব্যাটালিয়নের সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি বদ্ধপরিকর। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি সদস্য দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচার রোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। এ সময় তিনি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

এর মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। বিজিবির মতে, এসব মাদক ধ্বংসের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় মাদক বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ্ মো. আশরাফুল আলাম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জাহান কনকসহ বিজিবি, প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।