ভাঙনের মুখে রাজস্থলীর নাইক্যছড়া পাড়া: ঝুঁকিতে ৪০ পরিবার, জরুরি উদ্যোগের দাবি এলাকাবাসীর

ভাঙনের মুখে রাজস্থলীর নাইক্যছড়া পাড়া: ঝুঁকিতে ৪০ পরিবার, জরুরি উদ্যোগের দাবি এলাকাবাসীর

ভাঙনের মুখে রাজস্থলীর নাইক্যছড়া পাড়া: ঝুঁকিতে ৪০ পরিবার, জরুরি উদ্যোগের দাবি এলাকাবাসীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতে ছড়ার দুই পাশের পাহাড়, কৃষিজমি ও বসতভিটার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে অন্তত ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ছোট পাহাড়ি ছড়াটিতে অস্বাভাবিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে প্রায় পাঁচ ফুট প্রস্থের এই ছড়াটি প্রবল স্রোতের কারণে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। পানির তীব্র আঘাতে মুহূর্তেই দুই পাশের মাটি ধসে পড়তে শুরু করে এবং ভাঙনের বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে।

এরই মধ্যে ছড়ার পাড় ভেঙে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, চাষযোগ্য জমি ও কয়েকটি বসতভিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিদিনই আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং পানি ধীরে ধীরে লোকালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা জানান, বর্ষার সময় রাত নামলেই তাদের উদ্বেগ বেড়ে যায়। ভারী বৃষ্টি শুরু হলেই কেউ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন না। পানির স্রোত আরও বাড়লে ছড়ার পাড় ধসে ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

একাধিক বাসিন্দা বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু এবারের মতো ভয়াবহ ভাঙন আগে কখনও দেখিনি। প্রতিদিনই ছড়ার পাড় ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”

ভাঙনের মুখে রাজস্থলীর নাইক্যছড়া পাড়া: ঝুঁকিতে ৪০ পরিবার, জরুরি উদ্যোগের দাবি এলাকাবাসীর

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ প্রতিরোধ দেয়াল (গাটওয়াল) নির্মাণ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট অংশে শক্তিশালী গাটওয়াল নির্মাণ করা হলে পানির চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং ভাঙন অনেকটাই প্রতিরোধ করা যাবে।

এলাকাবাসী আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যসহ প্রায় ৪০টি পরিবার বসবাস করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিধস বা ভাঙন হলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, “দুর্যোগ হওয়ার পর নয়, আগেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এখনই প্রকৌশলীদের দিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করিয়ে গাটওয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।”

স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ভাঙনের ঘটনা ঘটলেও নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি এবং জীবন-জীবিকা নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *