জুলাই শহীদ আহসান হাবিবকে নিয়ে বিএনপি নেতার বক্তব্যে বিতর্ক, প্রতিবাদ জামায়াত নেতার
![]()
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ আহসান হাবিবকে ‘জুলাই যোদ্ধা নন’ দাবি করে তার নাম সরকারি গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক। এ বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে বক্তব্যটির প্রতিবাদ জানিয়েছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এনামুল হক বলেন, “কে জুলাই যোদ্ধা? আমি-আপনি সেই জুলাই যোদ্ধা। যারা জুলাই আন্দোলনে বুকের রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছেন, তারাই প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা।”
তিনি দাবি করেন, আহসান হাবিব জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন না, বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাই তাঁর নাম সরকারি গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এনামুল হক আরও বলেন, আহসান হাবিব নিহত হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা তৎকালীন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হেলালের নেতৃত্বে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন।
বিএনপি নেতার এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। এর জবাবে বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আহসান হাবিব জুলাই আন্দোলনে কক্সবাজারের রাজপথে শহীদ হয়েছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আন্দোলনের পক্ষে পোস্ট করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সারজিস আলমও একসময় ছাত্রলীগ করতেন। কিন্তু পরে তিনি ফ্যাসিবাদের পতনের আন্দোলনে সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন শহীদকে নিয়ে অযাচিত মন্তব্য আমাদের আহত করে। আহসান হাবিব ও ওয়াসিম আকরাম চকরিয়া-পেকুয়ার গর্ব এবং আমাদের প্রেরণা।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কক্সবাজার শহরে গুলিতে নিহত হন আহসান হাবিব। তার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে তার পরিবারের হাতে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। ২০২৫ সালে তাঁর কবর জিয়ারত করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।