‘আদিবাসী’ নাকি ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’? পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচয় বিতর্ক
![]()
বিশেষ প্রতিবেদক, বান্দরবান
আজ ৯ আগস্ট, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। তবে দিবসটি ঘিরে প্রতি বছরই নতুন করে আলোচনায় আসে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের প্রশ্ন। দেশের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজেদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে পরিচয় দিতে চাইলেও রাষ্ট্রীয় নথিতে তাদের পরিচয় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’, ‘উপজাতি’ বা ‘জাতিগত সংখ্যালঘু’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এ নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত, রাজনৈতিক বিতর্ক ও মতাদর্শগত বিভাজন।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এখানে মারমা, বম, ম্রো, ত্রিপুরা, চাক, খুমি, খিয়াং, লুসাই, তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা, পাংখোয়াসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। পাশাপাশি রয়েছে বাঙালি জনগোষ্ঠীও। বহু ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনাচার ও ঐতিহ্যের সহাবস্থানের কারণে বান্দরবানকে বলা হয় বৈচিত্র্যের জনপদ।
প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসকে কেন্দ্র করে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংগঠন, অধিকারকর্মী, রাজনৈতিক সংগঠন, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।
সংবিধানে কী বলা আছে
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, নৃ-সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি।
অন্যদিকে ২০১০ সালের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনেও ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় আইন ও নথিতে ব্যবহৃত পরিভাষা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজেদের পছন্দের পরিচয়ের মধ্যে পার্থক্য থেকেই বিতর্কটি তৈরি হয়েছে।
এদিকে পার্বত্য অঞ্চলের অনেক জাতিগোষ্ঠীর সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা নিজেদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তারা এ পরিচয়ের দাবিদার এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন নীতিমালাও তাদের এ দাবিকে সমর্থন করে।
আর রাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, বাংলাদেশের সকল নাগরিকই এ ভূখণ্ডের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক এবং সংবিধান ও প্রচলিত আইনে ব্যবহৃত পরিভাষাই সরকারি নথিতে অনুসরণ করা হবে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান
তবে বিষয়টি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময় ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে অবস্থান তুলে ধরতে হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায়ভুক্ত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে বৃত্তি, বহুভাষিক ও ই-লার্নিং ব্যবস্থা, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল টিমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকারের অঙ্গীকারও তুলে ধরা হয়।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি স্বীকার করে তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরছে।
পরিচয় নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য
কিছু গবেষক ও নাগরিক সংগঠনের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জাতিগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষের বসতি বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল। ফলে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের প্রশ্নটি কেবল ভৌগোলিক উৎস দিয়ে নয়, বরং ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক আইন এবং আত্মপরিচয়ের বিষয় হিসেবেও আলোচিত হয়ে থাকে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কার কমিশনের কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি, এনজিও এবং বিভিন্ন ব্যক্তি নানা প্রস্তাবনা দিয়েছেন। মূল বিষয় হচ্ছে, এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে কীভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, আগে সবাই বাঙালি বা বাংলাদেশের জনগণ হিসেবে বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এ অঞ্চলের একটি অংশ নিজেদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি চায়, আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক দল জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছে।
উবাথোয়াই মার্মার ভাষায়, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি একটি সমষ্টিগত বিষয়। এখানে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বর্তমান সরকার যেভাবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত সবার জন্য কল্যাণকর ও গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিই হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
‘পরিচয় বারবার কেন পরিবর্তিত হবে?’
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের দাবি নিয়ে আবারও আন্দোলন শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো—একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয় বারবার কেন পরিবর্তিত হবে? একটি জাতি বা জনগোষ্ঠীর পরিচয় কি বারবার বদলানো যায়?
তিনি বলেন, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজেদের ‘পাহাড়ি’ পরিচয়ে পরিচিত করতেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির সময় সন্তু লারমার নেতৃত্বে চুক্তিপত্রে ‘উপজাতি’ পরিচয়েই স্বাক্ষর করা হয়। এরপর সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি উঠলে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে তাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায় ও সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কাজী মজিবর রহমানের দাবি, এখন আবার ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি তোলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও এ নিয়ে রাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বলেছিলেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই; বাংলাদেশের সকল নাগরিকই বাংলাদেশি এবং বাঙালিরাই এ ভূখণ্ডের আদিবাসী—এমন অবস্থান তিনি তুলে ধরেছিলেন।

বর্তমান সরকারও ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার মাধ্যমে সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়ের কথা বলেছে। সরকারপ্রধান তারেক রহমানও বলেছেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি। এটাই আমাদের জাতীয় পরিচয়।’
কাজী মজিবর রহমান বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে নতুন করে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি উত্থাপন অযৌক্তিক এবং সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিচয়, অধিকার ও উন্নয়ন—কোনটি অগ্রাধিকার?
তবে পরিচয়ের প্রশ্নের বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, সরকার ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদও এসব জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিকাশে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে।
ফলে বিতর্কটি এখন অনেকটা দুই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে—রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক পরিভাষা হিসেবে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ যথেষ্ট কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কীভাবে দেখা হবে।
এখানে একটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ—‘আদিবাসী’ পরিচয়ের দাবি সমর্থনকারীরা এটিকে কেবল একটি নাম বা পরিচয়ের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন না; তারা এর সঙ্গে ঐতিহাসিক অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ভূমি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়গুলোও যুক্ত করছেন। বিপরীতে বিরোধিতাকারীরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রশ্নে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের বাইরে নতুন কোনো পরিভাষা গ্রহণের আগে এর রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিতর্কের কেন্দ্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডের একটি বিশেষ ভৌগোলিক ও সামাজিক অঞ্চল। তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জুড়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সংকট, শান্তিচুক্তি, ভূমি ও পরিচয়ের প্রশ্ন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে আছে।
ফলে ‘আদিবাসী’ বনাম ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ বিতর্ককে শুধু শব্দের বিতর্ক হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের একটি বড় অংশ অনালোচিত থেকে যায়। একই সঙ্গে পরিচয়ের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে যেন কোনো জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, সংস্কৃতি, মর্যাদা কিংবা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস সামনে এলেই ‘আদিবাসী’ না ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’—এই পরিচয় বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিচয়ের বিতর্কের পাশাপাশি পাহাড়ে বসবাসকারী সব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
শেষ পর্যন্ত ‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে রাষ্ট্রীয় অবস্থান, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়ের দাবি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরের আলোচনার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমন্বয় খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এ ক্ষেত্রে আবেগ বা রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবর্তে ইতিহাস, সংবিধান, প্রচলিত আইন, আন্তর্জাতিক নীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য অবস্থান নির্ধারণ করাই পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।