লংগদুতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৭০০ রোগী

লংগদুতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৭০০ রোগী

লংগদুতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৭০০ রোগী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির লংগদুতে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পে ৭০০ রোগীকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) লংগদু বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু জোনের উদ্যোগে এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লংগদু জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ।

ক্যাম্পে লংগদু উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভোগা নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান।

লংগদুতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৭০০ রোগী

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ছানিপড়াসহ বিভিন্ন জটিল চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদেরও শনাক্ত করা হয়। যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসা কিংবা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে ১৭৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রেফার করা এসব রোগীর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চক্ষু অস্ত্রোপচারের যাবতীয় ব্যয় লংগদু জোন বহন করবে। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেসব রোগীর এতদিন উন্নত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তারা বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাবেন।

এ উদ্যোগকে দুর্গম পার্বত্য এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী অনেক মানুষের পক্ষে অর্থের অভাবে চট্টগ্রামসহ বড় শহরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয় না। এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প তাদের সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর করছে।

লংগদুতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৭০০ রোগী

চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং পোর্ট সিটি, রোটারাক্ট ক্লাব অব চিটাগাং লেক সিটি, চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং প্রোগ্রেসিভ সাউথ।

আয়োজকেরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষ করে চক্ষু চিকিৎসার মতো বিশেষায়িত সেবা পেতে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এ বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া মানুষের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি সহায়তার মতো বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তারা বলেন, চিকিৎসাসেবা মানুষের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

লংগদুতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৭০০ রোগী

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। বিশেষ করে চশমা ও ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের সহায়তা হয়েছে।

স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, শুধু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন নয়, প্রয়োজনীয় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো এবং অস্ত্রোপচারের ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত এ উদ্যোগকে আরও মানবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed