কাপ্তাইয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনীতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

কাপ্তাইয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনীতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

কাপ্তাইয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনীতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পানের উপকারিতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত এবং শিশুদের জীবনের শুরুতেই পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হয়েছে।

‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’—এ প্রতিপাদ্যে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পর শিশুকে যথাযথভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর পাশাপাশি মায়েদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জীবনের শুরু থেকেই সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ক্লিনটন দে এবং বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাশ।

বক্তারা বলেন, শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস মায়ের দুধই শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। মাতৃদুগ্ধ পানের বিষয়ে মায়েদের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও প্রত্যন্ত এলাকার মায়েদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ নিশ্চিত করা জরুরি।

আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন এনজিওর কর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় মাতৃদুগ্ধ পানের উপকারিতা, শিশুর পুষ্টি, মায়ের স্বাস্থ্য এবং পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে কাপ্তাই বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মাতৃদুগ্ধ ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্যকর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মা ও শিশুর জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মাতৃদুগ্ধ পানের হার বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সুস্থ ও সক্ষম করে গড়ে তোলা সম্ভব।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed