নানিয়ারচরে আন্তর্জাতিক যুব দিবসে র‌্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

নানিয়ারচরে আন্তর্জাতিক যুব দিবসে র‌্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

নানিয়ারচরে আন্তর্জাতিক যুব দিবসে র‌্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

“ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটির নানিয়ারচরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

যুবসমাজের সম্ভাবনা, অধিকার ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উইমেন্স এডুকেশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (উইভ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে র‌্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর সুকান্ত চাকমা স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি যুবসমাজকে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নানিয়ারচরে আন্তর্জাতিক যুব দিবসে র‌্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে যেমন নানা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সচেতন, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, ভিন্ন ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা অনেকাংশেই অভিন্ন—শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা, কর্মসংস্থান ও সুন্দর ভবিষ্যৎ। তাই যুবসমাজের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পরে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা সম্ভব। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক নেতৃত্বের বিকাশে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed