প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত করতে লংগদুতে অবহিতকরণ সভা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত করতে লংগদুতে অবহিতকরণ সভা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত করতে লংগদুতে অবহিতকরণ সভা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এসব সেবার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টায় লংগদু উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

আশিকা প্রকল্প লংগদুর মনিটরিং অফিসার রুপায়ন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন লংগদু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিফ রহমান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফারিয়া ইসলাম, লংগদু থানার সেকেন্ড অফিসার মিসবাহ্, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপসহকারী রতন কুমার নাথসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।

সভায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, প্রাণিসম্পদসহ প্রয়োজনীয় সরকারি ও সামাজিক সেবাগুলো সহজলভ্য করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে কোথায় এবং কীভাবে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে, সরকারি সেবার সুযোগ কীভাবে গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।

বক্তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। আবার যোগাযোগব্যবস্থা ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণেও জরুরি সেবা পেতে তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা জরুরি।

সভায় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দুর্গম অঞ্চলের মানুষকে শুধু সেবা দেওয়াই যথেষ্ট নয়; সেবা পাওয়ার পদ্ধতি, সেবার গুরুত্ব এবং সঠিক সময়ে তা গ্রহণের বিষয়ে জনগণকে জানানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অবহিতকরণ সভা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, তরুণদের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং যুবসমাজকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সচেতন ও দায়িত্বশীল তরুণ সমাজ গড়ে উঠলে দুর্গম এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষাকারী সেবা গ্রহণের প্রবণতাও বাড়বে।

আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের আয়োজনে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় সহযোগিতা করে এফআইভিডিবি (FIVDB)। আয়োজনটির মাধ্যমে লংগদুর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed