কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল

কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল

কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজার শহরের সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে মধ্যরাতে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সুগন্ধা সৈকতের প্রবেশের ডান পাশে ১০ একরের বেশি জমি টিন ও বাঁশের ঘেরাও দিয়ে দখল করে একটি চক্র। আশপাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা।

এদিকে গুঞ্জন উঠেছে, দখলকৃত ওই জমিটি এস আলম গ্রুপের বাতিলকৃত প্লট। আর দখলদার সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছে না।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা সৈকতের প্রবেশপথের ডান পাশে টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বড় একটি অংশ ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তবে কারা এই জমি ঘেরাও করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ঘেরাওয়ের সময় ওই জমিতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান ছিল। তবে শুক্রবার মধ্যরাতে দোকান সরিয়ে জায়গাটি ঘেরাও করার সময় কয়েকজন হকারের সঙ্গে শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হকাররা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ টিনের বেড়ার একটি অংশ ভাঙচুর করে।

কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক টিন ও বাঁশ দিয়ে জমিটি ঘেরাও শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে ঘেরাওয়ের কাজ শেষ করা হয়। তাদের সঙ্গে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলও সেখানে অবস্থান করছিল। এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় যুবদল নেতা আজিজুল হক সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সুগন্ধা পয়েন্টের সরকারি জমি কি আবারও দখলবাজদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে?’ একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটন শিল্পের বিকাশে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’ বারবার ফুটে উঠছে। যে দলই ক্ষমতায় আসে, তাদের একটি অংশ সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় জায়গা দখল করে ঝুপড়ি দোকান নির্মাণে আগ্রহী হয়ে ওঠে।’

সুগন্ধা পয়েন্টে এস আলমের নামে বরাদ্দ বাতিল হওয়া প্লট রাতের আঁধারে দখলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় এই দখল হয়েছে। অথচ, সারাদিন প্রশাসনের ভূমিকা ছিল রহস্যময়।’

তিনি সরকারি জমি দখল বন্ধ, হকার উচ্ছেদে স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ এবং পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে ওবাইদুল হাসান ও সচ্চিদানন্দ সেনের দখলে থাকা ২ দশমিক ৩০ একর জমি উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসন। পরে সেখানে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। জমিটি এখনো জেলা প্রশাসনের আওতায় রয়েছে। এছাড়া এক মাস আগে রাজনৈতিক দলের নেতার নাম ব্যবহার করে নিলিমা রিসোর্টের পূর্বে হাড়ি রেস্টুরেন্টের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০ শতক সরকারি জমি দখলের অভিযোগ ওঠে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন প্রায় ১৩০ একর সরকারি খাসজমিতে হোটেল-মোটেল জোন গড়ে তোলা হয়। ওই জমিতে ৮৭টি প্লট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল

বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না করায় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি সংসদীয় কমিটি এবং ভূমি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ৫৯টি প্লটের ইজারা বাতিল করেন। পরে ২০১৮ সালে এসব জমি সরকারি খাস খতিয়ানে লিপিবদ্ধ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বাতিল হওয়া এসব প্লটে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা ইজারা দেওয়া আইনগতভাবে বৈধ নয়।

এদিকে সুগন্ধা পয়েন্টে সরকারি জমি দখলের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর অবৈধ স্থাপনা ও ঘেরাও নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে চার ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েম বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলের ঘটনায় জড়িত একজনকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই স্থানের মালিকানা বা ইজারার পক্ষে কোনো বৈধ নথি থাকলে তা জেলা প্রশাসক অথবা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন কাউকে সরকারি জমি দখল বা ঘেরাও করার অনুমতি দেয়নি।’

তানভীর হোসেন সায়েম আরও বলেন, অবৈধ অবকাঠামো ও টিনের বেড়া অপসারণের জন্য শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্থাপনা সরিয়ে নিতে রাজিও হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ দখল বজায় রাখার চেষ্টা করা হলে জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা ও ঘেরাও সরিয়ে না নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *