ত্রিপুরায় আদিবাসীদের ভূমির অধিকার সুরক্ষার আহ্বান প্রদ্যোত কিশোরের
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ত্রিপুরার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার সুরক্ষায় মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিপ্রা মথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা।
মহারাজা বীর বিক্রমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে মানুষ মহারাজার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ও তার মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। তবে শুধু আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই মহারাজার স্বপ্ন পূরণ হয় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মানিক্য রাজপরিবারের বংশধর প্রদ্যোত কিশোর বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি সুরক্ষায় মহারাজা বীর বিক্রম ১৯৪০ সালে একটি আইন প্রণয়ন করেছিলেন। ওই আইনের মাধ্যমে আদিবাসী এলাকায় জমি অ-আদিবাসীদের কাছে হস্তান্তরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
তার দাবি, ভারতের স্বাধীনতার পর ভূমির অধিকারসংক্রান্ত আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরা ল্যান্ড রেভিনিউ অ্যান্ড ল্যান্ড রিফর্মস (টিএলআর অ্যান্ড এলআর) আইন কার্যকর হয়।
প্রদ্যোত কিশোর আরও বলেন, একসময় আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা বিভিন্ন এলাকা পরবর্তীতে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (টিটিএএডিসি) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আজ আমরা মহারাজা বীর বিক্রমের জন্মদিন পালন করছি, তার নামে ভোট চাইছি; কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ করব কবে?”
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার জন্য ভূমির মালিকানাকে মৌলিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, ভূমিতে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে আদিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের উদাহরণ তুলে ধরে প্রদ্যোত কিশোর বলেন, মিজোরাম, ডিমা হাসাও, খাসি-জয়ন্তিয়া ও গারো এলাকা এবং নাগাল্যান্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ভূমির ওপর তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী সুরক্ষা রয়েছে।
অন্যদিকে ত্রিপুরায় আদিবাসীদের ভূমির অধিকার এবং ষষ্ঠ তফসিলের আওতাধীন এলাকায় জমির পাট্টা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রদ্যোত কিশোর বলেন, “আমরা যদি সত্যিই মহারাজা বীর বিক্রমকে সম্মান করতে চাই, তাহলে তার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে—একজন দরিদ্র আদিবাসী মানুষও যেন ভূমিহীন না হন।”
শুধু প্রতীকী শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এসব অধিকার আরও শক্তিশালী করা গেলে বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সাংবিধানিকভাবে ভূমির অধিকার সুরক্ষিত থাকবে—এমন একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়ে তোলার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন তিপ্রা মথার এই নেতা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।