গুইমারায় শেষ হল সেনাবাহিনীর আয়োজনে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গুইমারা সরকারি কলেজে প্রশিক্ষণের সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীন সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

সিন্দুকছড়ি জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন এম এম আকিফ ইউসুফ নজীব-এর পরিচালনায় দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রশিক্ষণ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন।
প্রশিক্ষণে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পেটব্যথা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, জখমের প্রাথমিক চিকিৎসা, হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের জরুরি পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক পদক্ষেপ, অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং জরুরি রোগীকে নিরাপদে হাসপাতালে স্থানান্তরের কৌশলও শেখানো হয়।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে গুইমারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অর্জুন নাথ উপস্থিত ছিলেন। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা অর্জিত জ্ঞান স্থানীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণার্থীরাও বলেন, দুর্গম এলাকায় অনেক সময় দ্রুত চিকিৎসক বা হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে দুর্ঘটনা বা জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সিন্দুকছড়ি জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন এম এম আকিফ ইউসুফ নজীব বলেন, “এ উপজেলার দুর্গম এলাকায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনহানির ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।