উখিয়ায় বর্জ্যের স্তূপে পরিণত সংযোগ সড়ক, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোর্টবাজার স্টেশন থেকে খোন্দকারপাড়া সংযোগকারী ব্রিক সলিন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সড়কের মাথা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় একাধিক বর্জ্যের স্তূপ। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোর্টবাজার স্টেশন থেকে খোন্দকারপাড়া হয়ে ১৪ এপিবিএন সদর দপ্তরের দিকে যাওয়া সড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বর্জ্য, পলিথিন ও নানা ধরনের পরিত্যক্ত সামগ্রী। কোথাও কোথাও বর্জ্য জমে সড়কের পাশের জায়গা দখল করে নিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয় বড়ুয়া বলেন, “সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। দিন দিন বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রবে আমরা অতিষ্ঠ। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে এখানে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
সড়কটির শেষ প্রান্তে রয়েছে ১৪ এপিবিএন সদর দপ্তর। পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে বর্জ্য জমে থাকায় জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, “প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে সড়কটি পরিষ্কার রাখা দরকার।”
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা না থাকায় সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কের পাশের বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সড়কটি আবারও নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।