রাঙামাটিতে উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী, নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটিতে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন ও মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০০ জনের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বোর্ডের মাইনী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কিমের আওতায় এসব সামগ্রী ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং ৫০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ২০০ জনকে সনদপত্র দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, পাহাড়ের মানবসম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করার সুযোগ তৈরি হবে, যা পারিবারিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠন করে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত কাজ চলছে। চুক্তি বাস্তবায়নের কিছু অংশ দৃশ্যমান এবং কিছু অংশ অদৃশ্যমানভাবে এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও পিছিয়ে থাকা এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও আত্মকর্মসংস্থান—এই তিনটি খাতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে, অন্যদিকে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তা পাওয়ার মাধ্যমে নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।