বিজিবির রামগড় জোনে মাসিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সভা, সম্প্রীতি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ

বিজিবির রামগড় জোনে মাসিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সভা, সম্প্রীতি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ

বিজিবির রামগড় জোনে মাসিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সভা, সম্প্রীতি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নিয়মিত সমন্বয় সভার অংশ হিসেবে রামগড়ে মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রামগড় জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জোন সদরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রামগড় জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে সভায় পদস্থ বিজিবি কর্মকর্তা ছাড়াও রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কয়লা ও রামগড় বনবিটের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, হেডম্যান ও কারবারি, কাঠ ব্যবসায়ী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

সভাটি শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং স্থানীয় মানুষের সমস্যা, সামাজিক সম্প্রীতি, গুজব প্রতিরোধ এবং এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

স্থানীয় সমস্যার কথা শুনল বিজিবি

সভা শুরুতে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক সমস্যা এবং উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

বিজিবি কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় রামগড় জোন অধিনায়ক দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারি, ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান—কোনো ঘটনা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করতে হবে। এতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান

রামগড়ের মতো বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সীমান্ত এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় সভায়।

সভাপতির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না; স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

গুজব প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করলে তা অনেক সময় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে গুজবে কান না দেওয়া এবং সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।

সীমান্তবর্তী রামগড়ের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য বিজিবি, পুলিশ, বন বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রামগড় জোনের উদ্যোগে এ ধরনের নিয়মিত সভা স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজিবির পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সমস্যা নিয়ে সরাসরি আলোচনা থাকলে অনেক সমস্যা বড় আকার ধারণের আগেই সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা গেলে রামগড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

সভায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *