মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-মাকে হারালেন টেকনাফের পুলিশ সদস্য কামাল

মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-মাকে হারালেন টেকনাফের পুলিশ সদস্য কামাল

মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-মাকে হারালেন টেকনাফের পুলিশ সদস্য কামাল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফে মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে একটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বাবাকেও হারিয়েছেন তাঁদের ছেলে পুলিশ সদস্য কামাল। পরপর বাবা-মাকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার নিজ বাড়িতে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান কামালের মা। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

মায়ের মৃত্যুর পর স্বজনদের সঙ্গে শোকাহত অবস্থায় ছিলেন কামাল। পরিবারের সদস্যরা যখন মায়ের দাফনসহ পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত, তখনই আসে আরও বেদনাদায়ক খবর। মায়ের মৃত্যুর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মারা যান কামালের বাবা।

অর্থাৎ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মাকে হারান পুলিশ সদস্য কামাল। স্বামী-স্ত্রীর এমন পরপর মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের মাতম।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকা এই দম্পতির প্রথমে স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বজনদের কান্না, শোক ও শেষবিদায়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ছিলেন তাঁর স্বামী। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনিও মারা যান।

স্থানীয়দের ধারণা, স্ত্রীর মৃত্যুর শোকও হয়তো তিনি সামলে উঠতে পারেননি। তবে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

কামালের বন্ধু নুরী বলেন, “আমার বন্ধুর মা গতরাতে মারা গেছেন। এর মাত্র ১৪ ঘণ্টা পর তাঁর বাবাও মারা গেলেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে বাবা-মা দুজনকে হারানোর কষ্ট খুবই বেদনাদায়ক। আল্লাহ যেন কামাল ও তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন।”

মায়ের মৃত্যুর পর স্বজনদের সঙ্গে শোকে ছিলেন কামাল। কয়েক ঘণ্টা পর বাবার মৃত্যুর খবর তাঁর পরিবারের ওপর যেন আরও বড় আঘাত হয়ে আসে। অল্প সময়ের ব্যবধানে জীবনের সবচেয়ে কাছের দুই মানুষকে হারিয়ে চরম শোকের মধ্যে রয়েছেন তিনি।

স্বজনরা জানান, বাবা-মায়ের এমন পরপর মৃত্যু পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। বিশেষ করে মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাওয়ার আগেই বাবাকে হারানো তাঁদের জন্য আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।

এদিকে স্বামী-স্ত্রীর পরপর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রঙ্গিখালী এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম দম্পতির রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাবা-মাকে হারানো পুলিশ সদস্য কামাল ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *