ভেদাভেদ নয়, বান্দরবানের উন্নয়নই হোক সবার অগ্রাধিকার: মাম্যাচিং
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও অতীতের দ্বন্দ্ব ভুলে বান্দরবান পার্বত্য জেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং।
তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতাদর্শের ভিন্নতা যেন জেলার মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সভাকক্ষে নবগঠিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান ও দায়িত্ব গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
একই সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী নবনিযুক্ত ১৪ সদস্যও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মাম্যাচিং বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে মতপার্থক্য কিংবা দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে এখন দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ভেদাভেদকে প্রাধান্য না দিয়ে জেলার মানুষের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের, সেটি বড় বিষয় নয়; জেলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
বান্দরবানের সব সম্প্রদায় ও জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

মাম্যাচিং বলেন, বান্দরবানের উন্নয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক সদস্যকে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে চিহ্নিত করে পরিষদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সমন্বিতভাবে সেগুলোর সমাধানে কাজ করতে হবে।
তিনি নবনিযুক্ত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জেলা পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়। জেলার সব মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব। তাই পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
নবনিযুক্ত জেলা পরিষদের সদস্যরা হলেন—চনুমং, মংক্যনু মারমা, লুসাই মং, মাওসেতুং তংচংগ্যা, দনওয়াই লো, অগাস্টিন ত্রিপুরা, অংজাইউই চাক, রিয়াল দাও বম, আবদুল মাবুদ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ক্যউ প্রু খিয়াং, উম্যাসিং মারমা ও কাজী নিরুতাঞ্জ বেগম।
দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা মনসুর আলম, নবনিযুক্ত সদস্য এবং পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে জেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।