নির্বাচিত এমপির চেয়ে অনির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি- রাঙামাটিতে সারজিস
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত এমপির চেয়ে অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি। এখানে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এখানে এতই লুটপাটের জায়গা যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না হয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হতে চায়। পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে বিশ কোটি টাকা লুটপাট করবে। এমন অবস্থা হয়েছে যে পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলো গঠন নিয়ে বিএনপির একটা অংশের অনেক নেতাকর্মী ত্যাগী থাকলেও কোরাম বাজির কারনে তারা কেউ স্থান পায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর বিশাল বরাদ্ধ আসলেও নেই কোন ভালো স্বাস্থ্য সেবা, নেই স্কুল কলেজ। তিনি অবিলম্বে পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলোর নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বুধবার (২৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরায় এনসিপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এ কথা বলেন।
সারজিস আলম আরো বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়িত ও জুলুমের শিকার হয়েছিল, বর্তমানে তারাই সেই পদ্ধতি অবলম্বন করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছিল, বিএনপি সরকারের ক্ষেত্রে তা মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিএনপির দলীয়করণের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় যারা এনসিপি করে তাদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে। এই চর্চা যারা বিগত সময়ে করেছে তাদের কি অবস্থা হয়েছে তা এদেশের জনগন জানে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী যে সংগঠন গুলো আছে তাদেরকে যার যার রাজনীতি করতে দিন। জনগন বেচে নিবে কোন দল করবে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেছেন, জামায়াতের সাথে এগারদলীয় নির্বাচনী জোটে এনসিপি আছে। এ জোট ভাঙ্গার কোন সম্ভবনা নেই। ফ্যাসিবাদি একটি গ্রুপ জামাত এনসিপি জোটকে নিয়ে প্রপাকান্ড চালাচ্ছে। তিনি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে বলেছেন,ডিসেম্বরে আসা তো দুরের কথা শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবেনা।
এনসিপি রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শোয়েবের সভাপতিত্বে অনুস্টিত সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সরওয়ার তুষার, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এমসুজা উদ্দিন সুজা, রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ন আহবায়ক জাকির হোসেন চৌধুরী ,প্রিয় চাকমা,শহিদুল ইসলাম জুড়াছড়ি উপজেলার আহবায়ক মিশন চাকমা, লংগদু উপজেলার সদস্য সচিব এরিক চাকমা, শ্রমিক শক্তির সংগঠক আমির উদ্দিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠক মোঃ শাহজাহান।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সরোয়ার তুষার বলেছেন, ৭২ সাল থেকে এদেশে ফ্যাসিবাদি কাজ চলে আসছে। সবাইকে বাঙ্গালী হয়ে যাবে এটাকে এনসিপি সমর্থন করে না। এখানে জাতিসত্তা ও কালচার ধরে রাখতে হবে। আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমরা কাউকে তার নিজ আত্ন পরিচয় থেকে বাদ দিতে চাইনা। বাংলাদেশী বানানোর নামে কারো জাতিস্ত্তার ইতিহাস আমরা ভুলে যেতে পারিনা। বাংলাদেশ বহু জাতি ধর্ম ও বর্নের দেশ। স্ব স্ব জাতির স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেছেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু এনজিও আদিবাসী বিতর্কে গিয়ে বিভাজন সৃস্টি করছে। আমরা কাউকে ছোট বা বড় করে দেখতে চাইনা। সকলে যার যার আত্নমর্যদা ও অধিকার নিয়ে বাচবে। সরোয়ার তুষার আরো বলেছেন,বিএনপি সরকার পাবত্য চট্টগ্রামের জনগনের সাথে প্রতারনা করেছে। পার্বত্য এলাকায় বিভাজন তৈরী করতে এখানের এমপিকে অসুস্থ্যতার অজুহাতে সরিয়ে দিয়ে বাহির থেকে এমপি এনে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হযেছে। এবার যাকে আবার মন্ত্রী বানানো হয়েছে ওনাকেও নিজের মতো করে ব্যবহার করবে। তিনি পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে প্রভাবশালী উল্লেখ করে বলেছেন,ওনি এ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব থাকলে কেউ কাজ করে শান্তি পাবেনা। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ে তিনজন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দেয়া হবে বলে জানান।
সভায় এনসিপির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে দলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।