জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪.৯৯ একর জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের চুক্তি

জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪.৯৯ একর জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের চুক্তি

জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪.৯৯ একর জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের চুক্তি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণে বাড়বে দেশীয় সমরাস্ত্র উৎপাদন

জার্নাল প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের (জেটিএমএল) ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। তাঁর স্বাগত বক্তব্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জমি হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের পক্ষে বিটিএমসির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসার, ইস্টার্ন সার্কেল, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিত্ব করেন।

May be an image of dais

অনুষ্ঠানে বিটিএমসি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী; সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং প্রধান অতিথি মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য দেন।

বক্তব্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। আধুনিকায়নের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদেরও ধন্যবাদ জানান সেনাবাহিনী প্রধান। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা সামগ্রীসহ দেশে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্যকে বহির্বিশ্বে সমাদৃত করতে চায়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ সশস্ত্র বাহিনী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।

May be an image of dais and text

দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতের সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের একমাত্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি। ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বিওএফ সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিওএফ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আধুনিক সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও সুসংহত করার পাশাপাশি সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথও আরও শক্তিশালী হবে।

একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশীয়ভাবে সমরাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনেও এই সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

No photo description available.

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট; আর্টডক-এর ভারপ্রাপ্ত জিওসি ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট; ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের (ইবিআরসি) কমান্ড্যান্ট; ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব; চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার; চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি; চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান এবং সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ভাটিয়ারীর এই জমি হস্তান্তর চুক্তিকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশীয়ভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিমাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা অর্জনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed