‘পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরান’, ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

‘পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরান’, ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

‘পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরান’, ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ইরানের হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌমন্ত্রী। এর ফলে সেখানে থাকা পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর নিয়ে কী করা হবে, তা মূল্যায়নে কাজ করছে ওয়াশিংটন। খবর আল জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ছয় মাসের মাথায় মার্কিন স্থাপনায় সামরিক স্থাপনায় আঘাতের ঘটনা নিয়ে বিরল ‘স্বীকারোক্তি’ দেন হাং কাও। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য ইপোক টাইমসকে’ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা (ইরানে) বাহরাইনে চরম ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।’

মার্কিন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কাও-এর এই স্বীকারোক্তির জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘আমরা নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও-এর এই স্পষ্টবাদিতার প্রশংসা করি। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী প্রকৃতপক্ষে বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে চরম ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বারবার ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। লাগাতার হামলার কারণে এসব ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতের আঁধারে চালানো ইরানের হামলায় জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে একাধিক মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ওপেন সোর্স থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিমান হামলা চালানোর পর প্রতিশোধমূলক হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি’ ঘাঁটিটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ঘাঁটিটিকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবি, সোশ্যাল মিডিয়ার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সেনা সদস্যদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ইরানের হামলাগুলো ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। তবে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে এসব স্বীকার করেনি।

তদন্তে দেখা গেছে, ওই ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার এবং ভেতরের অন্তত এক ডজনেরও বেশি ভবনে মারাত্মকভাবে আঘাত হানা হয়েছে।

কাও জানান, এখন ঘাঁটিটি সংস্কার করা হবে কি না, তা নিয়ে মূল্যায়ন করছে নৌবাহিনী। তিনি দ্য ইপোক টাইমসকে বলেন, ‘আমার একটি টাস্কফোর্স আছে, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’

নৌবাহিনীর সবচেয়ে সিনিয়র ইউনিফর্মড কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে এনএসএ বাহরাইন ‘খুব শিগগিরই’ এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারবে না।

কাও বলেন, ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে এর ক্রুদের ‘নোঙর করার মতো কোনো জায়গা ছিল না’।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার রাতে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রস্তুতি এবং মোতায়েন সাইটগুলোর পাশাপাশি সেগুলোর শেল্টারে আঘাত হেনে শত্রুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, এই হামলার কারণে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ওয়ার্থগ নামে পরিচিত একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট অ্যাটাক এয়ারক্রাফট আঘাতপ্রাপ্ত হয়, এতে এর একটি ডানা ধ্বংস হয়ে যায়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *