পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয়না মামলা! বহাল তবিয়তে চলছে ১৫টির বেশি ইটভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয়না মামলা! বহাল তবিয়তে চলছে ১৫টির বেশি ইটভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয়না মামলা! বহাল তবিয়তে চলছে ১৫টির বেশি ইটভাটা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ও লাকরি এলাকায় পরিবেশ আইন অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান, মামলা ও জরিমানার উদ্যোগ থাকলেও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশের ছাড়পত্র ও আইনগত অনুমোদনের বিষয়টি উপেক্ষা করে বছরের পর বছর এসব ইটভাটায় ইট উৎপাদন চলছে। কোথাও পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ এবং কোথাও কাঠ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে আর্থিকভাবে ‘ম্যানেজ’ করেই প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লামার ফাইতং এলাকায় মোট ৪২টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলার মধ্যে দুটি মামলায় মোট ২৬ লাখ টাকা এবং অপর একটি মামলায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানা ও মামলা হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট অনেক ইটভাটার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আরও পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয়না মামলা! বহাল তবিয়তে চলছে ১৫টির বেশি ইটভাটা

ফাইতং এলাকায় ১৪টি জিকজ্যাক ইটভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হলেও লাকরি এলাকার অন্যান্য ইটভাটার বিরুদ্ধে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পাহাড়ি বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইটভাটার ধোঁয়া ও দূষণের কারণে স্থানীয় জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগে কয়েকটি ইটভাটার নামও উঠে এসেছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের এমএইচবি, শাহ আলমের এসবিডব্লিউ, এখলাছের ফাইভ বিএম ও সেভেন বিএম, বেলাল কোম্পানির ইউবিএম-১, জলিল কোম্পানির ইউবিএম-২, বেদার ও জাহাঙ্গীরের এসএমবি, করিম কোম্পানির কেবিসি, মোজাম্মেলের ইভিএম, রিংকু, আরজু, রিয়াদ ও নাজুদের বিবিসি, এসএসবি, বিবিএম, বেলাল কোম্পানির এবিসি-২ ও এবিসি-৩ এবং নাছির উদ্দিনের পিভিএনসহ আরও কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয়না মামলা! বহাল তবিয়তে চলছে ১৫টির বেশি ইটভাটা

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ ওঠা ইটভাটা মালিকদের বক্তব্যও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পরিবেশ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ না হলে পাহাড়ি এলাকার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, বনাঞ্চল থেকে কাঠ সংগ্রহ এবং ইটভাটার ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শুধু মামলা বা জরিমানা নয়, আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে আরও পাঁচটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তর ম্যানেজ হলেই হয়না মামলা! বহাল তবিয়তে চলছে ১৫টির বেশি ইটভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর লামা থানায় মামলাগুলো দায়ের করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের গত ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৫(খ) ও ১২ ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৪ ও ৮(৩)(গ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নতুন করে মামলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন, মামলা ও জরিমানার পাশাপাশি বাস্তবে ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে। কারণ পাহাড় কাটা ও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে শুধু জরিমানা দিয়ে দায় শেষ না করে পরিবেশের ক্ষতি বন্ধে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, লামার ইটভাটাগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে সরেজমিন তদন্ত করবে। যেসব ইটভাটা আইন ও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করছে, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও বের করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed