ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক

ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক

ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের মাসালং এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং যোগাযোগের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগে একসঙ্গে চিকিৎসা পেয়েছেন শতাধিক মানুষ। একই সঙ্গে চোখের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে এমন ১৫ জন রোগীকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সেনাজোনের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের মাসালং মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীর সাজেক জোনের সহায়তায় এবং চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন ও লায়ন্স ক্লাব চিটাগাং ফিনিক্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক

সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের দুর্গম পাড়া থেকে পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ জনকে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যাদের চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১৫ জনকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সেনাজোনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের চোখের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক

চিকিৎসা কার্যক্রমে সাজেক জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. হাবিবুল্লাহ হাবিব এবং চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতাল থেকে আসা চক্ষু বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। দুর্গম এলাকা থেকে আসা রোগীদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ দেওয়া হয়।

সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সেনাজোনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে ভুয়াছড়ি, মাসালং ১৪ কিলো, গঙ্গারাম বাজার, বাঘাইহাট, মুশফিক, সাজেক পর্যটন এলাকা ও ক্ষেত্রপুরসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মাসালং এলাকায় বিশেষভাবে চক্ষু চিকিৎসার আয়োজন করা হয়।

ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক

স্থানীয় বাস্তবতায় এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেশি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক বাসিন্দার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো শুধু অর্থের বিষয় নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় একটি বাধা। ফলে চোখের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় আক্রান্ত অনেক মানুষ দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থেকে যান। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের শহরে নেওয়ার ব্যবস্থা কার্যত একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে।

তবে এ মানবিক কার্যক্রম ঘিরে কর্মসূচির আগেই পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউপিডিএফ কর্তৃক বাধা ও মানুষকে হুমকি দেয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ১৭ সেপ্টেম্বর মাসালংয়ে অনুষ্ঠেয় বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা কর্মসূচিতে ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের বাধার অভিযোগ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তি বা নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগকে ব্যাহত করতে পারে।

ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক

এর মধ্যেই নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা অনুষ্ঠিত হওয়া এবং সেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণকে দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার দিকটি সামনে এনেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিয়মিত বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়েও খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী ও জেলা সদর হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে ৮৬১ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।

ইউপিডিএফের বাধা উপেক্ষা করে সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন শতাধিক

সাজেকেও চিকিৎসাসেবার এ ধারাবাহিকতা স্থানীয় মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ দুর্গম পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, ততই জটিল রোগ শনাক্ত ও সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাজেক জোনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *