ভালোবাসা ও সম্মানে বিদায় নিলেন মহালছড়ির অবসরপ্রাপ্ত ৩০ শিক্ষক, স্মরণে প্রয়াত ২ শিক্ষক

ভালোবাসা ও সম্মানে বিদায় নিলেন মহালছড়ির অবসরপ্রাপ্ত ৩০ শিক্ষক, স্মরণে প্রয়াত ২ শিক্ষক

ভালোবাসা ও সম্মানে বিদায় নিলেন মহালছড়ির অবসরপ্রাপ্ত ৩০ শিক্ষক, স্মরণে প্রয়াত ২ শিক্ষক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মানে বিদায় নিলেন খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা। একই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে প্রয়াত দুই শিক্ষককে। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী শিক্ষকরা। তাদের বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সহকর্মী ও শিক্ষকরাও।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে এ আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গত পাঁচ বছরে অবসর নেওয়া ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং মৃত্যুবরণ করা দুই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মিসকাতুল তামান্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন, পানছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভায়ন খীসা, মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপুল বিকাশ চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক সেন, সরকারি আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ধনমনি চাকমা এবং এপিবিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমেদ।

এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনুপম শীল। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এডিন চাকমা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়াত দুই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা গ্রহণের সময় অনেক শিক্ষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি, সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের কথা স্মরণ করে কেউ কেউ ফিরে যান তাদের কর্মজীবনের পুরোনো দিনগুলোতে।

বিদায়ী শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শাসন ও স্নেহে মানুষ করে তোলা, বিদ্যালয়ের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে তারা কর্মজীবন পার করেছেন। দায়িত্ব পালনের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তাদের বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; তিনি একটি শিশুকে স্বপ্ন দেখতে শেখান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেন এবং সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। মহালছড়ির প্রাথমিক শিক্ষায় যারা দীর্ঘদিন নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের অবদান অবসরের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না। তাদের হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থীই তাদের কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

তারা আরও বলেন, অবসর একজন শিক্ষকের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটালেও শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান ও স্মৃতি থেকে যায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সমাজের মানুষের হৃদয়ে। একইভাবে প্রয়াত শিক্ষকরা শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও কর্মের স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকে।

জানা যায়, মহালছড়ি উপজেলায় গত পাঁচ বছরে অবসরগ্রহণ করা ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং মৃত্যুবরণ করা দুই শিক্ষকের পরিবারকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মাননা ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ছিল ভালোবাসা, স্মৃতিচারণ ও বিদায়ের আবেগ। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যেন বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন তাদের কর্মজীবনের সেই শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী এবং প্রিয় বিদ্যালয়ের আঙিনায়। দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও মহালছড়ির প্রাথমিক শিক্ষায় তাদের রেখে যাওয়া অবদান ও স্মৃতি শিক্ষক সমাজের কাছে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।