টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরে চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি বস্তায় থাকা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীন হ্নীলা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানের সম্ভাব্য পথগুলোতে সতর্ক অবস্থানে থেকে টহল দলটি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল।

এরপর রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বস্তা হাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ দেন। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা বিজিবির চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সময় গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বস্তাগুলো ফেলে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালান। এ সময় চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া তিনটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরে বস্তাগুলো খুলে খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতর বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়। বিজিবির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আনুমানিক ১৫ কেজি ওজনের এসব প্যাকেটে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ছিল।

ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হলেও ইয়াবা ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আটকের জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজিবি সূত্র জানায়, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্তপথে ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্যের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতারই অংশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *