বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০০ ঘর নির্মাণ করবে শামসুল হক ফাউন্ডেশন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনে ১০০টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত এনজিও সংস্থা আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন। বন্যায় বসতঘর হারানো কিংবা বসবাসের অনুপযোগী ঘরে থাকা পরিবারগুলোর আবাসন সংকট দূর করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় লামা উপজেলার তাকওয়া ভ্যালি প্রাঙ্গণে ১০০ ঘর নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মাহবুব-উল-আলম (অব.)। বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন।
ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় যেসব পরিবার বসতঘর হারিয়েছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ও বসবাসের অনুপযোগী ঘরে অবস্থান করছে, তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই ১০০টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হবে। বন্যার পর পুনর্বাসন কার্যক্রমেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক পরিবার একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে আবাসন সংকটেও পড়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে নিজেদের অর্থে নতুন করে বসতঘর নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বেসরকারি উদ্যোগে ১০০টি ঘর নির্মাণের এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই এবার ১০০ ঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ একটি ঘর একটি পরিবারের জন্য শুধু আশ্রয় নয়, বরং নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা ঘরগুলো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। উপকারভোগী নির্বাচন, ঘর নির্মাণের স্থান, নির্মাণকাজের সময়সীমা এবং ঘরের গুণগত মানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য শুধু ত্রাণ সহায়তা যথেষ্ট নয়; তাদের স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থাও জরুরি। ১০০টি ঘর নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক অসহায় পরিবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন, স্বচ্ছতার সঙ্গে উপকারভোগী নির্বাচন এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের পুনর্বাসন উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।
১০০ ঘর নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও গৃহহীন পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।