আটক সিআইএ এজেন্টকে মুক্তি দিতে বাধ্য হল ভারত!
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
১৩ মার্চ ২০২৬। কলকাতা বিমানবন্দরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)’র হাতে আটক হন ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক। একই সময়ে দিল্লি ও লখনৌ বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় আরও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে।
কিন্তু ভ্যানডাইক সাধারণ কোনো পর্যটক ছিলেন না। তিনি নিজেকে সাবেক সৈনিক, ব্যাটলফিল্ড জার্নালিস্ট ও সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বিভিন্ন দেশেই। ২০১১ সালের লিবিয়া যুদ্ধে গাদ্দাফি বিরোধী বাহিনীর সঙ্গে তিনি সরাসরি লড়েছেন, বন্দিও হয়েছিলেন, কিন্তু অজানা কারণে আবার মুক্তিও পেয়েছিলেন।পরবর্তীতে সেখান থেকে এসে ভাড়াটে যোদ্ধাদের সংগঠন সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল (SOLI) প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনটি সামরিক ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। তারা ইউক্রেনিয়ানদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, ক্ষেত্র বিশেষে ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধও করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরও তাঁর বিভিন্ন দেশে সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
এরপর আসে মিয়ানমার অধ্যায়।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্হা NIA-এর অভিযোগ ভ্যানডাইক ও তাঁর ছয় সহযোগী বৈধ ভিসায় ভারতে প্রবেশের পর প্রয়োজনীয় Protected Area Permit ছাড়াই ভারতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে যান। এরপর মিজোরামের তিয়াউ নদী রুট দিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করে মায়ানমারের ভিক্টোরিয়া ক্যাম্প-এ যান।
সেখানে তাদের মিয়ানমারভিত্তিক একটি বিদ্রোহী গোষ্টিকে ড্রোন যুদ্ধ, ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন সংযোজন এবং জ্যামিং প্রযুক্তি বিষয়ে পূর্বনির্ধারিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছে। NIA আরও বলেছে, ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও সরঞ্জাম ভারতে আনার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। যার ফলাফল আজ আমরা মায়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্টির হাতে দেখতে পাচ্ছি।

এনআইএ আদালতকে জানায়, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইসের ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বরের নমুনা বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা তাদের মিয়ানমারে একটি বেসামরিক বিমান-এর ওপর drone attack-এর সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার দিকে ইঙ্গিত করে। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছে, মিয়ানমারে বসে থাকা সম্ভাব্য “মূল পরিকল্পনাকারী”-দের বিষয়ে তথ্য বের করতেই ভ্যানডাইককে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে এগুলো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করতে ব্যার্থ হয়েছে ভারতীয়রা।
বিভিন্ন ভিডিওতে আটক অবস্থায় তাকে হুইল চেয়ারে দেখা যায়, যার অর্থ হল আটক অবস্থায় তার উপর নির্মম জিজ্ঞাসাবাদও করেছে ভারতীয়রা।
তবে চলতি সেপ্টেম্বরে ভারতের NIA যে চার্জশিট দাখিল করেছে, সেখানে আপাতত তার বিরুদ্ধে UAPA সন্ত্রাসবিরোধী ধারা রাখা হয়নি। ভ্যানডাইক ও অন্যদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র অভিবাসন ও বিদেশী আইন-এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সাধারণত বেশ সামান্যই সাজা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভ্যানডাইক ডিফল্ট জামিন পান। আর গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দিল্লির আদালত তাঁকে এবং ছয় ইউক্রেনীয়কে এক মাসের জন্য নিজ নিজ দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত হলো প্রয়োজন হলে NIA-এর তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে হবে।
সমালোচকদের দাবি, একজন সত্যিকারের ছায়ামানব এই ম্যাথিউ। বিভিন্নদেশে সরাসরি আটক হলেও প্রতিবারই অজানা কারণে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। ছাড়া পেয়ে নতুন দেশে নতুন মিশনে গিয়েছেন। তিনি কখনো ইউরোপে, কখনো আফ্রিকায় কখনো আরব দেশে আর সর্বশেষ মিশন পরিচালনা করেছেন এই দক্ষিণ এশিয়ায়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।