আলীকদমে কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান, আটক ১৯
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের আলীকদমে মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে থানা পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আড্ডারত, অহেতুক ঘোরাঘুরি ও ক্যারাম খেলাসহ বিভিন্ন কারণে ১৯ কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে ভবিষ্যতে সদাচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মুচলেকা নিয়ে নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার চম্পটপাড়া, প্রভাত কারবারিপাড়া, হাফিজের দোকান, আলীর বাজার, চিনারী বাজার, আবাসিক এলাকা, রেফারপাড়া বাজার, চৈক্ষ্যং রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পুলিশ পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন, এসআই উপেন বড়ুয়া, এসআই নিশাত বড়ুয়া, এসআই আবু সাইদ, এসআই জহিরুল ইসলাম, এসআই মিয়েল চাকমা, এএসআই রাজিব, এএসআই মফিজ, এএসআই মাহফুজসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, ঘোরাঘুরি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা এবং বিভিন্ন অভিযোগে ১৯ কিশোরকে সতর্কতামূলকভাবে আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে এসে অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়।
অভিভাবকেরা থানায় উপস্থিত হলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন ওসি মো. শাহেদ পারভেজ। এ সময় তিনি কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবারের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীলভাবে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের বলা হয়, কিশোরদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি নয়, পরিবার থেকেই কিশোরদের আচরণ ও চলাফেরার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দও থানায় উপস্থিত ছিলেন। আটক কিশোরদের বিষয়ে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
অভিভাবকেরা পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহেদ পারভেজ বলেন, ‘কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই এ ধরনের অভিযানের মূল লক্ষ্য। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিশোরদের প্রতি আইনগত ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যাতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে তাদের ও অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, আটক ১৯ কিশোরের কাছ থেকে ভবিষ্যতে সদাচরণ করা এবং কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী এ ধরনের বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আলীকদম থানা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।