লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক

লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক

লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহতের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যহাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে মতবিনিময় সভা।

রোববার (৪ অক্টোবর) লামা বন বিভাগের আয়োজনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত একজনের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের হাতে মোট ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়।

সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন লামা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন রেঞ্জে কর্মরত রেঞ্জ কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও ক্ষতিগ্রস্ত উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, যারা হাতির আক্রমণে আপনজন হারিয়েছেন, তারাই বুঝতে পারেন ক্ষতির পরিমাণ কতটা। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক সহযোগিতা মূলত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনার নিদর্শন।

তিনি বলেন, হাতির আবাসস্থল দখল করে জনবসতি স্থাপন, জুম চাষ ও বাগান সৃজনের কারণে হাতির খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে। খাবারের সন্ধানে হাতি লোকালয়ে নেমে এসে মানুষ ও ফসলের ক্ষতি করছে। এতে মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্বও তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যহাতি সংরক্ষণে সরকার ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। হাতি-প্রবণ প্রতিটি এলাকায় ‘ইআরটি’ নামে একটি দল গঠন করা হয়েছে। এসব দলের সদস্যরা হাতি সংরক্ষণে কাজ করছেন। হাতি জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাতির আবাসস্থল নষ্ট না করে তা উন্মুক্ত রাখা জরুরি। কোনোভাবেই হাতিকে হত্যা করা যাবে না; বরং সবাইকে সম্মিলিতভাবে হাতি সংরক্ষণে কাজ করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ ও বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *