মহালছড়ির দুর্গম জনপদে শিক্ষার পরিবেশ দেখতে বিদ্যালয় পরিদর্শনে সেনা জোন অধিনায়ক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি জনপদে নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের লেমুছড়ি শান্তিপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল জাবির আসিফ। প্রত্যন্ত এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির খোঁজ নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে এ পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে জোন অধিনায়ক শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি এবং তাদের পড়াশোনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আমিন, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে জোন অধিনায়ক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শুধু শিক্ষা বিস্তারের কেন্দ্র নয়, স্থানীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যোগাযোগসহ নানা বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর স্থানীয় জোনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
মহালছড়ি জোনের এ ধরনের কার্যক্রমকে স্থানীয় পর্যায়ে সেনাবাহিনীর জনসম্পৃক্ততা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সরাসরি খোঁজ নেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ সম্পর্কে সরেজমিনে অবহিত হওয়া ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জোন অধিনায়কের এ পরিদর্শনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেনাবাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের নিয়মিত যোগাযোগ ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে সামনে আসবে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমন্বিত জনসম্পৃক্ততা জোরদার হলে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও মানোন্নয়নে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।