আলীকদমে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পালিত, পাখি সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পাখি সংরক্ষণ, আবাসস্থল রক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বানের মধ্য দিয়ে বান্দরবানের আলীকদমে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস (ডব্লিউএমবিডি)। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘প্রতিটি পাখিই গুরুত্বপূর্ণ—আপনার পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ’ (Every Bird Counts – Your Observations Matter)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় আলীকদমের কলারঝিরি জবিরাম কারবারীপাড়া কমিউনিটি হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় এবং ‘বায়োডাইভারসিটি ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন ফর কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স ইন দ্য সিএইচটি’ (বিইআরসিআর) প্রকল্পের উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়। পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখি গণনা এবং পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের ওপর অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়ক অংসুই মার্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তজয় ত্রিপুরা কারবারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য রুইচং ম্রো, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিব ম্রো, সাংবাদিক সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে পাখির প্রজাতি, বন্যপ্রাণীর বিচরণ এবং আবাসস্থলের পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক, বনাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পর্যবেক্ষণও কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত পাখি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য নথিভুক্ত করার মাধ্যমে পাখির সংখ্যা, বিচরণক্ষেত্র এবং পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখতে পাখির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাখি ইঁদুর ও বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে। পাশাপাশি কিছু পাখি ফুলের পরাগায়নে ভূমিকা রাখে এবং পরিবেশের সুস্থতা বোঝার জৈবিক নির্দেশক হিসেবেও কাজ করে। প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও পাখির অবদান অনস্বীকার্য। তাই পাখি সংরক্ষণকে সবার নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার পাশাপাশি সামাজিকভাবে পাখি শিকার প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বন, পাহাড়ি ছড়া, হ্রদ ও জলাভূমি দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, কীটনাশকের ব্যবহার এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ, দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ এবং পাখির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করা জরুরি।
দিবসটির প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাখি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য নথিভুক্ত করার পাশাপাশি সংরক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।