মণিপুরের কাংপোকপিতে দুই কুকি যুবক অপহরণের অভিযোগ, ৪৮ ঘণ্টার বন্ধের ডাক

মণিপুরের কাংপোকপিতে দুই কুকি যুবক অপহরণের অভিযোগ, ৪৮ ঘণ্টার বন্ধের ডাক

মণিপুরের কাংপোকপিতে দুই কুকি যুবক অপহরণের অভিযোগ, ৪৮ ঘণ্টার বন্ধের ডাক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের মণিপুর রাজ্যের কাংপোকপি জেলায় দুই কুকি যুবককে অপহরণের অভিযোগে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক বন্ধের ডাক দিয়েছে আদিবাসী ঐক্য কমিটি (কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি—CoTU)। অপহৃত দুই যুবককে অবিলম্বে, নিরাপদে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ বন্ধ চলবে ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

CoTU-এর তথ্য অনুযায়ী, অপহৃত দুই যুবক হলেন থাঙ্গিনলুন চংলোই (২১), পাউমিনলাল চংলোইয়ের ছেলে এবং পাউগিনলাল হাংসিং (২০), হাওলেট হাংসিংয়ের ছেলে। তাঁরা তাফৌ কুকি গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৮ অক্টোবর হেংবুং থেকে তাফৌ কুকি গ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। এ ঘটনার সঙ্গে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা জড়িত বলেও দাবি CoTU-এর। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাংপোকপি জেলার দোকানপাট, বাজার, যানবাহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। তবে চিকিৎসাসেবা, গণমাধ্যমকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে এ বন্ধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

অপহৃত দুই যুবককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে CoTU। সংগঠনটি বলেছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।

সদর হিলসভিত্তিক এই উপজাতীয় সংগঠনটি ঘটনাটিকে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কুকি-জো সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও তুলেছে।

এক বিবৃতিতে CoTU দাবি করেছে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাজনিত ঘটনায় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ায় বৈষম্য দেখা যায়। সংগঠনটির অভিযোগ, কুকি-জো সম্প্রদায়ের বাইরের গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দেখা গেলেও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিলম্ব কিংবা নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়।

CoTU-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কথিত বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য। তাদের দাবি, নিরাপত্তা কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে এমন পরিস্থিতি প্রশ্ন তৈরি করে এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আরও উৎসাহিত করতে পারে।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অপহৃত দুই যুবককে নিরাপদে ও অক্ষত অবস্থায় মুক্তি দেওয়া না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁদের উদ্ধারে ব্যর্থতার কারণে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় সরকার ও কথিত অপহরণকারীদের নিতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে CoTU।

এদিকে, দুই যুবককে অপহরণের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং তাঁদের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। CoTU-এর তোলা অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed