কিছু দেশে স্টারলিংক নিষিদ্ধ কেন?

কিছু দেশে স্টারলিংক নিষিদ্ধ কেন?

কিছু দেশে স্টারলিংক নিষিদ্ধ কেন?
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মূল ধারণা হলো, এটি প্রায় যেকোনো জায়গা থেকেই ব্যবহার করা যাবে। যেখানে প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগ-যেমন তারের মাধ্যমে বা মোবাইল নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট পাওয়া যায় না, সেখানে স্টারলিংকের মতো সেবা বেশ কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

তবে বাস্তবে সব দেশে স্টারলিংক ব্যবহার করা যায় না। কিছু দেশে সেবাটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ, সিরিয়া ও আফগানিস্তানেও স্টারলিংক নিষিদ্ধ বা এর ব্যবহার অনুমোদিত নয়। ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, নামিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশে এ সেবা ব্যবহারে বিধিনিষেধ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।

তবে সব নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট দেশে স্টারলিংক একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। কিছু এলাকায় সীমিত অনুমোদনের ভিত্তিতে সেবাটি চালু থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কয়েকটি দেশে নির্দিষ্ট অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ও উপকূল থেকে দূরে স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে চীন দেশটির জলসীমায় স্টারলিংকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

দেশভেদে স্টারলিংক নিষিদ্ধ বা সীমিত রাখার কারণও ভিন্ন। চীন এখনো বাণিজ্যিকভাবে সেবাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। রাশিয়ায় বিদেশি স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সরকারও স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ছোট দেশগুলোর ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও সরকারি নীতির কারণে সেবাটির ব্যবহার নিষিদ্ধ হতে পারে। কোথাও আবার রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কিংবা বাণিজ্যিক অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতে স্টারলিংক প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এখনো সেখানে সেবাটি চালু হয়নি। অবশ্য এসব পরিস্থিতি সব সময় এক রকম থাকে না। সম্প্রতি নিউয়ে স্টারলিংকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ভারতেও শেষ পর্যন্ত সেবাটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিছু এলাকায় সেবা ব্যবহারের বিকল্প উপায় রয়েছে

আবহাওয়াজনিত সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ও সেবার মান নিয়ে উদ্বেগের মতো সমস্যার পাশাপাশি স্টারলিংকের আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, সব দেশে এটি ব্যবহার করা যায় না। তাই কোন কোন এলাকায় সেবাটি চালু আছে, আর কোথায় বিধিনিষেধ রয়েছে, সে বিষয়ে আগে থেকেই খোঁজ রাখা জরুরি।

যেসব অঞ্চলে স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, সেসব জায়গায় অস্থায়ীভাবে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ করেন এমন অনেকেরই এই সেবা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হতে পারে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, মানবকল্যাণকর্মী ও শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা। কোথাও ভ্রমণের আগে স্টারলিংকের আওতাভুক্ত এলাকার মানচিত্র দেখে নেওয়া উচিত। তবে রোমিং পরিকল্পনার মাধ্যমে কিছু বিধিনিষেধযুক্ত দেশ থেকেও সংযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

এজন্য প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো স্টারলিংক-সমর্থিত কোনো দেশ থেকে সংযোগের সরঞ্জাম কিনতে হবে। এরপর নিষিদ্ধ বা বিধিনিষেধযুক্ত এলাকায় যাওয়ার আগে ‘রোম আনলিমিটেড’ পরিকল্পনা চালু করতে হবে। তারপরও চীন ও রাশিয়ার মতো কয়েকটি দেশে স্টারলিংক সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে এসব দেশে রোমিং পরিকল্পনা থাকলেও সেবা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

বিধিনিষেধযুক্ত এলাকায় স্টারলিংক ব্যবহারের চেষ্টা করলে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা না থাকলে নিজ দেশের বাইরে সেবা ব্যবহারের সময়সীমা ৩০ দিন। এই সময় পেরিয়ে গেলে সংযোগের সময়সীমা নতুন করে চালু করতে স্টারলিংকের ডিশ নিজ দেশে ফিরিয়ে এনে সেবাটিতে সংযুক্ত করতে হবে।
অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা নিলে নিজ দেশের বাইরে আরও ৬০ দিন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এটিও অনির্দিষ্টকাল ধরে ব্যবহার করার সমাধান নয়।

সূত্র: বিজিআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *