ইউরোপজুড়ে ‘দাবানল’ সৃষ্টির হুঁশিয়ারি ইরানের

ইউরোপজুড়ে ‘দাবানল’ সৃষ্টির হুঁশিয়ারি ইরানের

ইউরোপজুড়ে ‘দাবানল’ সৃষ্টির হুঁশিয়ারি ইরানের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত না মিললেও বিরোধ আরও উসকে দিয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো হুঁশিয়ারি দেন, এবার কোনো আংশিক হামলা নয়, ওয়াশিংটন প্রয়োজনবোধে পুরো ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে।

হোয়াইট হাউসের এই তীব্র হুমকির জবাব দিতে কালক্ষেপণ করেনি তেহরানও। পাল্টা হুংকার দিয়ে ইরানের সামরিক শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, ওয়াশিংটন বা তার মিত্ররা যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তারা ইউরোপের মাটিতে থাকা মার্কিন কৌশলগত শক্তির জবাবে সরাসরি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। ইউরোপজুড়ে ‘দাবানল’ সৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইএনএনে সম্প্রচারিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হুমকির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, আগ্রাসনের জবাবে ইউরোপীয় দেশ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, পশ্চিমাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর লভিভ এবং কৌশলগত বন্দরনগরী ওডেসা ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওয়াশিংটনের উসকানিতে প্রচ্ছন্নভাবে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর আঞ্চলিক মেরুকরণে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইরানবিরোধী কার্যক্রমে জড়ানোর মাশুল হিসেবেই এ ধরনের সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার পরিকল্পনা আঁকা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন পাল্টাপাল্টি চরম হুমকিতে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কেবল ইউক্রেনই নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশকেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তেহরান। সেই সক্ষমতা ও পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ অনুসারে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হাতে এমন কিছু মাঝারি ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলো ইউক্রেনসহ পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের একাধিক ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম।

আইআরজিসির দূরপাল্লার কৌশলে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দুই ধাপের কঠিন জ্বালানিচালিত ‘সেজ্জিল’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ২৫ টন ওজন ও ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এবং এটি ১ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত ভারী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি এই ক্ষেপণাস্ত্রের ‘ক্লাস্টার’ সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মূল ওয়ারহেডের জায়গায় একাধিক ক্ষুদ্র ওয়ারহেড যুক্ত থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত ‘প্যাট্রিয়ট’-এর পক্ষে এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

এ ছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বহরে রয়েছে তরল জ্বালানিচালিত ‘খোররামশাহর’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরআইএনএনের তথ্য অনুসারে, সাধারণ অবস্থায় এর পাল্লা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার হলেও হালকা মানের ওয়ারহেড ব্যবহার করা হলে তা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও পৌঁছাতে পারে।

১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ কেজির একক বা ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম খোররামশাহর আঘাতের স্থানে চরম ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারদর্শী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভৌগোলিক হিসাব অনুযায়ী দাবি করা হয়, ইরানের উত্তর বা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল (যেমন তাবরিজ) থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলে ইউক্রেনের খারকিভ (১ হজার ৫৫০ কিমি), কিয়েভ (১ হাজার ৮৫০ কিমি) এবং লভিভ (২ হাজার ১৫০ কিমি) সহজেই এর আওতায় চলে আসে।

কিন্তু চার হাজার কিলোমিটার পাল্লার খোররামশাহরের মতো উন্নত সংকলন ব্যবহার করা হলে কেবল ইউক্রেনই নয়, ইউরোপ মহাদেশের বৃহৎ অংশই সরাসরি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে পড়বে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের দাবি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *