বান্দরবানে নও মুসলিম ফারুক ত্রিপুরা হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্রপরিষদের মানববন্ধন

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বান্দরবানের বাসিন্দা নও-মুসলিম ও মসজিদের ইমাম ওমর ফারুক ত্রিপুরা হত্যার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে সারাদেশে। প্রতিদিন সভা সমাবেশ করছে বিভিন্ন সংগঠন। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্রপরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির তুলাছড়ি আগাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম নও মুসলিম মো. ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি ছাত্র পরিষদের আয়োজনে এ মানববন্ধনে সর্বস্তরের নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা শহীদ ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় বসবাসকারী মুসলমানদের নিরাপত্তার দাবি জানান।

এছাড়া, নওমুসলিম ওমর ফারুককে হত্যার ৭ দিনেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে ও খুনীদের শাস্তির দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর খাগড়াছড়ি জেলা শহরের মুক্তমঞ্চে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে নওমুসলিম ইমাম মো. ওমর ফারুকের হত্যাকারী জেএসএস সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জানানো হয়। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রত্যাহার হওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প চালুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদ উল্লাহের সভাপতিত্বের অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সহ-সম্পাদক মেহেদী হাসান, স্কুল বিষয়ক সহ-সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, সুমন আহমেদ, আব্দুর রহিম হৃদয় ও মো. সোহেল রানা।

একই সময়ে, রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুম্মার নামাজ শেষে শহরের বনরূপা এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ,কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সভায় বক্তারা বলেন, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তুলাছড়ি গ্রামে গত ১৮ জুন রাতে নওমুসলিম মসজিদের ইমাম ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে তার বাড়িতে গুলি করে হত্যা করে সন্তু গ্রুপের জেএসএস এর সন্ত্রাসীরা। অভিলম্বে ওমর ফারুক ত্রিপুরা হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ে গ্রেফতার করে ফাঁসি দেওয়ার দাবি এবং পাহাড়ে সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজী বন্ধে সেনাবাহিনী কর্তৃক চিরু অভিযান চালানোর দাবি জানান বক্তারা। এর আগে সংগঠনটি শহরের কাঠাঁলতলী এলাকা থেকে হত্যার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা এলাকায় এসে মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সি: সহ-সভাপতি মো. হাবিব আজম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলার সভাপতি শাব্বির আহম্মেদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিম আল হাসানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মান, সহ-সভাপতি কাজী মো. জালোয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ মামুন।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও মানববন্ধন ও প্রতিবা সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্রপরিষদ, এতে সংহতি জানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এদিকে, বিকাল ৫টায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কাওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের উদ্যেগে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপেজলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা স্কয়ারে মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়েছে।

নও-মুসলিম ও মসজিদের ইমাম শহিদ ওমর ফারুক’কে পাহাড়ী সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, হাফেজ তাজুল ইসলাম, মাওলানা সাব্বির মাহমুদ রশীদী, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, হাফেজ মুফতি মহী উদ্দিন,হাফেজ আলী কারীমী হোসেন, মুহাম্মদ আল আমিন, মোঃ আবু বক্কর প্রমূখ।

এসময় বক্তাগন বলেন, একজন পাহাড়ী ভাই যখন খিৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে তখন কোন প্রকার বাধা প্রদান করা হয় না। অথচ যখনি সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে তখনি নও-মুসলিম ভাইদের করা নির্যাতন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ধর্ম প্রাণ মুসলমান, এই ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর অন্তরেও ব্যাথা দিয়েছে, তাই নও-মুসলিম উমর ফারুক ত্রিপুরা ভাইকে হত্যার সুষ্ট তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা তিনি নিবেন বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন এবং পাহাড়ের আনাচে কানাচে আইন শৃংখ্যলা বাহীনি মোতায়ন করে পাহাড়ের নৈরাজ্য পূর্ন পরিস্থিতির উন্নতি করবেন।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম তুলাছড়ির বাসিন্দা ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে গত ১৮ জুন রাতে নিজ ঘর থেকে বের করে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। ওমর ফারুক পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন। সনাতন ধর্ম থেকে প্রথমে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টান হন। পরে ২০১৪ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তুলাছড়ির নিজ এলাকাতেই মসজিদ গড়ে তুলে সেখানে ইমামতি করে আসছিলেন।