পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন ও অবকাঠামো খাত উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ঈর্ষণীয় ভূমিকা - Southeast Asia Journal

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন ও অবকাঠামো খাত উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ঈর্ষণীয় ভূমিকা

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

এম এম শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের মোট ভূমির দশ ভাগের এক ভাগ ভূমি নিয়ে তিন পার্বত্য জেলা গঠিত, এ অঞ্চলটি সমতলের অন্যান্য জেলার চেয়ে ভৌগোলিক বৈচিত্রময় এবং একানকার মানুষের জীবনধারা একেবারেই ভিন্ন। তাই স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলের প্রতি সমতলে বসবাসরত মানুষের আকর্ষণ অনেকটাই বেশী। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে তিন পার্বত্য জেলার পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করাই ছিল এখানকার মানুষের অন্যতম দাবি। পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আহবানে তিন পার্বত্য জেলাকে পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে সেনাবাহিনী নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছে। পার্বত্য জেলা শহর, নদী, সর্পিল রাস্তা, পাহাড় ও সবুজে ঘেরা সারি সারি গাছ, পাহাড়ের গুহা, ঝর্ণা, বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি, জীবনধারা ও বিনোদনের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ সড়কপথ, অবকাঠামো উন্নয়ন সাধন করে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা নিয়ে বৈরী পরিবেশে কাজ করছে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হুমকি এবং দুর্গম পাহাড়ি পথে সড়ক নির্মাণ করে উল্লেখযোগ্য স্থানে পর্যটন শিল্প উন্নয়নে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর অনন্য অবদান স্মরণ করা এবং ধারণা দেওয়ার জন্য আমি লেখনীর মাধ্যমে পাঠকগণকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে জানানোর চেষ্টা করছি।

পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল পার্বত্য চট্রগ্রাম। মেঘ ও পাহাড়ের মেলা, কাপ্তাই লেকে অপরতপ সৌন্দর্য, ভিন্ন জনগোষ্ঠির অবসহান এ সকল বিষয় সব সমই নজর কেড়েছে সৌন্দর্য পিপাসু ও ভ্রমণ বিলাসী পর্যটকদের। নিরাপত্তা সত্রুামত জটিলতা ও দূর্গমতার কারণে এই অঞ্চল ছিল সাধারণ পর্যটকদের ও ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ধরাছোয়ার বাহিরে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরলস পরিশ্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং রাত্রীযাপন করার সুবিধা তৈরীকরণের ফলে আজ হাজার হাজার সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ পার্বত্য চট্রগ্রামের বিভিন্ন দূর্গম সহানে ভ্রমণ করার সুযোগ পাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের বহু দিনের অাকাঙ্গা পূর্ণ হচ্ছে অপর দিকে প্রামিতক এ জনপদের মানুষেরও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা লাভ করছে। আমার আজকের লেখনিতে পার্বত্য চট্রগ্রাম পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, সেনাবাহিনীর অবদান ও ভবিষৎ করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরা হলঃ

পর্যটন শিল্পের অতীত অবস্থান-

পার্বত্য চট্টগ্রাম বৈচিত্র্যময় ও মনোরম দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর অঞ্চল হিসাবে বিবেচিত হলেও শান্তিবাহিনী থাকাকালীন সময়ে এ অঞ্চলটি পর্যটন শিল্প বিকশিত হতে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। পাহাড়ি সন্ত্রাসের সংগঠনের উপস্থিতি ও আনাগোনার কারণে সাধারণ মানুষের পদচারণা ছিল অকল্পনিয়। এই বৈরী পরিবেশ পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের আনাগোনার কারণে বেসামরিক পর্যায়ে সড়কপথ নির্মাণ এবং পর্যটন শিল্প উন্নয়ন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এহেন পরিস্থিতিতে সকল বিপদসংকুল পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে গেছে পর্যটন সম্ভাবনাময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ভৌগোলিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যগণ নিজস্ব কৌশলে পাহাড়ি জনপদে আঁকাবাঁকা পাহাড় ও ঢালে মাটি কেটে রাস্তা তৈরি করে এই অঞ্চলের উন্নয়নের ধার খুলে দিয়েছে। আজ হতে দুই যুগ পূর্বে যারা পার্বত্য অঞ্চল সফর করেছেন তারা সহজেই আমার এই লেখনীর উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন।

পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা-

বাংলার দার্জিলিং হিসেবে খ্যাত সাজেক এমন একটি স্থান ছিল যার সাথে রাঙ্গামাটি জেলা সদরের যোগাযোগ ছিল না বললেই চলে। রাঙ্গামাটি সদর হতে মাইনি নদী পথে লংগদু হয়ে দীঘিনালা অতিক্রম করে দুর্গম পথে সাজেকে যেতে হতো বিকল্প রাস্তা হিসেবে অনেকেই খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেকে যাতায়াত করত। সেনাবাহিনীর সদস্যগণ এই দুর্গম সাজেক এলাকাকে ভৌগোলিক অবস্থানগত বিষয়টি বিবেচনা করে সড়কপথ নির্মাণ করে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলে। বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক সাজেক রিসোর্ট নির্মাণের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনের মান উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সাজেক এখন শুধু বাংলাদেশ নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সাজেক পর্যটন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাঘাইহাট সেনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অপারেশন উত্তরণের আওতায় স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন করে। ২০১৫ সালের পর দেশব্যাপী সাজেক পর্যটন এলাকার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায় কিন্তু তাদের অবকাশ যাপনের সমস্যা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে পর্যটকদের সমস্যা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনের মান উন্নয়নের তাগিদে অনেকেই রিসোর্ট ও কটেজ তৈরি করার পরিকল্পনা নেয়। সেনাবাহিনী বেসামরিক পর্যায় রিসোর্ট ও কটেজ তৈরির অনুমোদন ও সার্বিক সহযোগিতা করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০০ ফুট উঁচু সাজেক ভ্যালির রুইলুইপাড়া এবং কংলাকপাড়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। যেখানে ২০১৬ সালে ৩৯ টি রিসোর্ট ও কটেজ ছিল তা বর্তমানে শতকের উপর দাঁড়িয়েছে। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সারি সারি পাহাড় এবং মেঘমেলার অপরুপ দৃশ্য স্ব-শরীরে সাজেক ভ্যালিতে গেলেই আপনি বুঝতে পারবেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ আজকের সাজেক ভ্যালী নিজ মহিমায় দাঁড়িয়েছে। এখন ওই এলাকায় ব্যাপকহারে পর্যটন শিল্প বিকশিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ও বেড়েছে। অনেক পাহাড়ি ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন রিসোর্ট ও কটেজ, সেখানে অনেক বেকার যুবক-যুবতী এর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের পরিবহনে প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতেও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় তাদের পরিবার এখন স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক সাজেক রিসোর্ট নির্মাণের পর ব্যক্তি মালিকানাধীন উল্লেখযোগ্য কিছু রিসোর্ট ও কটেজ এর নাম যা যথাক্রমে আলো রিসোর্ট, রুন্ময় রিসোর্ট, লুসাই রিসোর্ট, মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট, রক প্যারাডাইস রিসোর্ট, মেঘবিলাস রিসোর্ট এবং খ্রাস্রাং রিসোর্ট ইত্যাদি। বর্তমানে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বাঘাইহাট সেনা জোন যাতায়াতকালীন সময়ে নিরাপত্তা প্রদান করে আসছে, এতে নির্ভয়ে পর্যটকগণ যাতায়াত করছে।

খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন ব্যবস্থাপনা-

সম্প্রতি গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া হতে মহালছড়ি উপজেলার সংযোগ সড়ক সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্মাণের ফলে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। সেনাবাহিনী পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণে পংখীমুড়া এলাকায় একটি ভিউ পয়েন্ট নির্মাণ করেছে, যেখানে বর্ণিল পাহাড়ি দৃশ্যের দেখা মিলে। এছাড়া এই সড়কটি নির্মাণের ফলে পর্যটকগণ রাঙ্গামাটি হতে অতি অল্প সময়ে মহালছড়ি সংযোগ সড়ক অতিক্রম করে চট্টগ্রাম বা ফেনী সড়কে যাতায়াত করতে পারে। সড়ক এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সেনাবাহিনীর অনন্য ভূমিকায় এই জেলার পর্যটন শিল্প অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন পর্যটকগণ সাজেক পর্যটন এলাকায় গমনের উদ্দেশ্যে আগমন করলেও তারা জিরো মাইল জেলা পরিষদ পার্ক, আলুটিলা পর্যটন এলাকা, রিচাং ঝর্ণা ইত্যাদি পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ ও আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে জড়িতদের আয় বেড়ে গেছে।

বান্দরবান জেলার পর্যটন ব্যবস্থাপনা-

বান্দরবানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে তাজিংডং পাহাড়, বগালেক, স্বর্ণমন্দির এবং নীলগিরিকে বিবেচনা করা হলেও দুর্গমতার কারণে অনেকেই রুমা উপজেলার তাজিংডং পাহাড় বা থানচি পর্যটন এলাকায় যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। ওই অঞ্চলে ভ্রমণে প্রতিকূল পরিবেশ যাতায়াত ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ব্যয় বেশি হওয়ায় পর্যটকগণ ভ্রমণ পরিকল্পনা ছোট করে ফেলে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ জেলার দুর্গমতা এবং পর্যটকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে নীলগিরি পাহাড়ে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ করে যুগউপযোগী ভূমিকা গ্রহণ করে। এতে পর্যটকগণ বান্দরবান সদরের যেমনঃ মেঘলা, নীলাচল এবং স্বর্ণমন্দির পর্যটনকেন্দ্র দর্শনের পাশাপাশি নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র তাদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ও মেঘমালার মিলনক্ষেত্র হিসাবে নীলগিরি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। ২০১২ সালের পর হতে বান্দরবানের আলীকদম হতে থানচি উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি পথ ও বৈরী পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যগণ ওই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে আরো প্রসারিত করেছে, সেখানে ডিমপাহাড় এবং আঁকাবাঁকা শর্পিল সড়ক পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। এই সড়ক পথ ব্যবহার করে পর্যটকগণ কক্সবাজার হতে চট্টগ্রাম অতিক্রম করে থানছি পর্যটন এলাকায় সাঙ্গু নদীর প্রবাহ, জলপ্রপাত ও রাজপাথর এলাকায় ভ্রমণ করে থাকে। এছাড়া ভ্রমণের অধিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড় এবং অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ করে থাকার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চিম্বুক পাহাড় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১ম পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ প্রকল্প শুরু করা হয়। সিঙ্গাপুরের আদলে এক পাহাড় হতে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার জন্য কেবল কার সুবিধাসহ এই বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি নির্মাণ হলে বান্দরবান জেলার পর্যটন শিল্পের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়। তবে এই প্রকল্পের শুরুতেই পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার ও আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করে। এমন কি এই বিষয়টি দেশের বাহিরেও প্রচারণা করে সরকার তথা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যামত খু্ব সহনশীলতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জেলা পরিষদের মাধ্যমে অপপ্রচার এর বিরুদ্ধে প্রকল্প কার্যক্রম এর সঠিক অবস্থান তুলে ধরে। ওই সময়ে একটি চক্র ম্রো সম্প্রদায়ের উগ্রবাদী কিছু যুবক স্থানীয়দের মাঝে অপপ্রচার করে চিম্বুক পাহাড় এলাকায় শোডাউন করে। এমন কি উস্কানিমূলক বিবৃতি প্রদান করে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করতে প্রকল্প এলাকায় হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু সেনাবাহিনী ধৈর্য সহকারে উপজাতি সন্ত্রাসীদের পাতানো ফাঁদে পা না দেওয়াই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় ম্রো উপজাতিরা খুবই শান্ত স্বভাবের তারা উগ্রবাদী নয়, সুযোগ সন্ধানী পাহাড়ে কতিপয় সন্ত্রাসী সংগঠন ফাইদা নেওয়ায় অপচেষ্টায় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে পর্যটন শিল্প উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করছে। ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষ সেনাবাহিনীর নিকট সমান, তাই তারা পাহাড়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে শত বাঁধা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে পর্যটন শিল্প বিকাশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছে।

রাঙ্গামাটি জেলার পর্যটন ব্যবস্থাপনা-

বান্দরবান জেলার পর্যটন খাত উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পর্যটন শিল্পোউন্নয়নের অনন্য ভূমিকার প্রভাব রাঙ্গামাটি জেলাতেও পড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবসহা জোরদার করার প্রেক্ষিতে কাপ্তাই হৃদ, রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রীজ, রাজবন বিহার, শুভলং নদীপথ, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানেও পর্যটকগণের আনাগোনা বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রাম হতে ৭৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা শহরে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে পর্যটকগণ ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শুভলং এ গমন করে। এছাড়া রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে জলপথ পাড়ি দিয়ে রাজবন বিহার এবং ঝুলন্ত ব্রীজ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে। দুটি বিচ্ছিন্ন পাহাড় হতে ৩৩৫ ফিট লম্বা রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রীজ সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি নামে পরিচিত এ সেতু যেন দুই পাহাড়ের মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় সেনাবাহিনী নদীতে ব্রীজ নির্মাণের ফলে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে।

রাঙ্গামাটির সুভলং, খাগড়াছড়ির সাজেক, বান্দরবনের নীলগিরি পর্যমত রয়েছে পর্যটকদের পদচারনা, কাট্রলী বিলের অপার সৌন্দর্য, হাতিরমাথা, লংগদু, বাঘাইহাটের জোন ও পাহাডের সৌন্দর্যের সমারহ এখনও রয়ে গেছে পর্যটকদের ধরাছোয়ার বাহিরে। হালাম্বা রেঞ্জ ও বন্দুকভাঙ্গায় সুর্যদয় ও সুর্য অস্ত বাস্তবিক ক্ষেত্রেই পর্যটকদের অনেক বেশি আকৃষ্ঠ করবে।

এতক্ষণ বলছিলাম পার্বত্য চট্টগ্রামে মাইলের পর মাইল দৃষ্টিনন্দন সড়ক তৈরি করা এবং পর্যটন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও এশিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনন্য আত্মত্যাগের কথা। শুধু এখানেই নয় দেশ গঠনমূলক কাজে যেমনঃ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্প, মহিপাল ফ্লাইওভার, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ এবং তিন পার্বত্য জেলায় সীমান্ত সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে অর্পিত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমি এই ক্ষুদ্র লেখনীর মাধ্যমে সেনাসদস্যদের দেশপ্রেম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে অবদানে পাঠকদের বিবেচনায় উপস্থাপন করলাম।