দেশের তিন পার্বত্য জেলায় নির্বিচারে চলছে বৃক্ষ নিধন ও পাচার - Southeast Asia Journal

দেশের তিন পার্বত্য জেলায় নির্বিচারে চলছে বৃক্ষ নিধন ও পাচার

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটির কাপ্তাই, ওয়াগ্গা, রাইখালী,বাঙাল হালিয়া, ভালুইক্কা, ডংনালা, চাকুয়াসহ পাহাড়ি এই বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা, পাচার ও পরিবহনের জন্য ও অঘোষিতভাবে অবৈধ পাচার কার্যক্রমের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার রাত নামলেই শুরু হতে পারে কাঠ-লাকড়ী পাচার কার্যক্রম।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ পাচার কার্যক্রমে মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন স্থানীয় শ্রমিকরা। প্রতি বছর সিত মৌসুম এলে ৪ থেকে ৫ মাস চলে বৃক্ষ নিধন। পরবর্তীতে এসব গাছ ব্যবহৃত হয় পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মিল কারখানা এবং ইটভাটায়।

গাছ কাটা ও পরিবহন শ্রমিকরা জানায়, রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে সেগুন, জারুল, মেহগনি, গর্জন, গামারি গাছ সহ বিভিন্ন ধরনের গাছ কাটা হয়। বিশেষ করে ইট প্রস্তুতের ভরা মৌসুমকে সামনে রেখে রাত হলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে পাচারে পুরোদমে ব্যস্ত কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট।

এ পাচারকার্যে যে সকল শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে তারা বলেন শীতের মৌসুম এলে বছরে অন্তত টানা ৬ মাস এভাবে কাজ করে থাকি, এতে করে বন উজার হয় বিষয়টি সত্য। কিন্তু আমরা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষরা নিরুপায়।

নির্বিচারে এমন বৃক্ষ নিধনযজ্ঞে পাহাড়ে গাছের পরিমাণ কমতে থাকায় বনে পশু পাখির আবাসস্থল ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। গত কয়েক বছরের ন্যায় বর্তমানে ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধনের কারণে বন উজার হওয়ায় অনেক পশু-পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। বিষয়টি মাথায় রেখে জড়িতদের দায়ী করে গাছ কাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও বন রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা।

কাপ্তাই রাঙামাটি বন ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ উদ্যোক্তারা বলেন, বন উজাড়ের কারণে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়। বিষয়টি রোধে অবৈধভাবে গাছের বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ কুরতে হবে। পাহাড়ে বন উজাড় হলেও বন বিভাগের কতিপয় ব্যক্তি প্রায় সময় উদাসীন থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার কারণে অবৈধ কাঠ পাচার কিছুটা কমে আসলেও সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে বন বিভাগের কতিপয় কর্মচারীদের যোগসাজশে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে বন উজাড়ের কার্যক্রম থেমে নেই।

অবৈধ কাঠ ও গাছ পাচার বন্ধে আশ্বাসের কথা জানিয়েছে বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শোয়াইব খান জানান, রিজার্ভ ফরেস্টে বৃক্ষ নিধন ও অবৈধ কাঠ পরিবহণ বন্ধে টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে যেন ইটভাটায় যাতে বনের কাঠ পরিবহন করতে না পারে সেজন্য সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রকৃতির ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি কার্যক্রম বলবত থাকবে।

অপরদিকে বন উজাড় প্রতিরোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সম্প্রতি তিন পার্বত্য জেলায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি এইচআরপিবির পক্ষে নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

জানা যায়, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের যারা অবগত হয়েছেন, জেলা প্রশাসকেরা হলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক জাহিদ উদ্দিন, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

আদেশের তিন পার্বত্য জেলার ইটভাটা মালিকেরা রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি রিট পিটিশন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট বিভাগ। পরে ইটভাটা মালিকেরা আপিল বিভাগে দুটি আপিল দায়ের করলে তা নিষ্পত্তি করে রায় দেন।

এ রায়ের পরেও যদি তিন পার্বত্য জেলায় লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তাহলে পদক্ষেপ নিতে এ আইনি নোটিশটি দেয়া হয়। নচেৎ আইনানুযায়ী ব্যবস্থা চেয়ে আদালতে যাবেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।