‘কম্বল খান পায়া এলা গরম থাকির পারমো’ - Southeast Asia Journal

‘কম্বল খান পায়া এলা গরম থাকির পারমো’

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে জেঁকে বসা শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিন্নমূল মানুষের দুর্দশাও বেড়েছে। এসব শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আসাদুজ্জামান হাকিমের দিক নির্দেশনায় জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের দারোয়ানী কুন্দপুকুর মনির উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ২৮০ জন হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ করেন ৫৬ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আলী আকবর। শীতবস্ত্র বিতরণের সময় নীলফামারী ব্যাটালিয়নের জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদবির সৈনিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

শীতবস্ত্র পেয়ে জমিলা বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘মোর বেটা নাই, একনা বেটি। বাড়ি ভিটা ছাড়ি আসি বেটির বাড়িত থাকো। বেটি ছাড়া দেখার কাহো নাই। কম্বল দিবে শুনিয়া আসির ধরছু, লাইনপারত পরি গেছু। একটা ভাজিতি হবে তায় মোক তুলে এইটে আনিল। কম্বল পানু এলা জারখান ভালোভাবে কাটিবে।’

আমেনা বেগম নামে আরেক বৃদ্ধা বলেন, ‘খুব ঠান্ডা বায়, কোমর চলে না, ছাপুরি বেড়াও। আগত একটা কম্বল পাছু, সেইটা ছিঁড়ি গেইছে, স্বামী নাই, মাইনষের বাড়িত ছিড়া দাগলী পড়ি থাকো। কম্বল খান পায়া এলা গরম থাকির পারমো।’

ষাটোর্ধ্ব আব্দুল জব্বার বলেন, কম্বল পায়া মোর খুব উপকার হইল বায়, কত জনের কাছোত গেছু কাও মোক কম্বল দেয় নাই, জারোতে মোর হাত পাও কোঁকড়া হয়া গেইছে।

শীতবস্ত্র বিতরণের পর মেজর আলী আকবর বলেন, প্রত্যেক বছরের শীতের সময় উত্তরবঙ্গের মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের কথা চিন্তা করে বিজিবির মাধ্যমে কম্বল পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকার আমাদেরকে পাঠিয়েছেন আপনাদের শীত নিবারণের জন্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বিজিবির সহায়তা অব্যাহত থাকবে।